পরিবারচ্যূত ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শ্রাবণ একযুগ পর কেশবপুরে
- আপডেট সময় : ০১:৫৫:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ৩২০ বার পড়া হয়েছে
একযুগ পর নিজ জন্মভূমি যশোরের কেশবপুরে গিয়ে নেতাকর্মীদের ভালোবাসায় সিক্ত হলেন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি কাজী রওনাকুল ইসলাম শ্রাবণ।
শনিবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্র মেরামতে ৩১ দফা বাস্তবায়নে লিফলেট বিতরণের জন্য তিনি কেশবপুরে যান। ছাত্রদলের রাজনীতির কারণে আওয়ামী লীগ বাবার পরিবারচ্যূত হন শ্রাবণ। ফলে দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় পর নিজ উপজেলায় আসার খবরে মোড়ে মোড়ে ফুল নিয়ে অবস্থান নেন নেতাকর্মীরা। তার এই বহরে কেশবপুর থেকে প্রায় দেড় হাজার মোটরসাইকেল ও শতাধিক মাইক্রোবাসে নেতাকর্মীরা অংশ নেন। ৩১ দফা সম্বলিত লিফলেট বিতরণকালে নেতাকর্মীদের এই ঢলে তিনি আবেগাপ¬ুত হয়ে পড়েন। কর্মসূচি থেকে তিনি ঘোষণাও দেন আগামি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী হওয়ার।
কর্মসূচিতে সাংবাদিকদের কাজী রওনাকুল ইসলাম শ্রাবণ বলেন, তারেক রহমানের বার্তা পৌঁছে দিতে আমি কেশবপুরে এসেছি। আগামি একমাসের মধ্যে তারেক রহমানের ৩১ দফা কেশবপুরে মানুষের দুয়ারে পৌঁছে দিতে পারবে। কেশবপুর মানুষের আস্থা আর মানবিক বাংলাদেশ গড়তে তারেক রহমানের এই ৩১ দফা ভূমিকা রাখবে। কেশবপুরে কোনো চাঁদাবাজের আশ্রয় হবে না। কেশবপুরে ভয়হীনভাবে জনগণ বসাবস করবে, সেই বার্তা নিয়ে এসেছি। এক যুগ পর কেশবপুরে এসে জনগণের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছি।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন তিনি অত্যাচার নির্যাতন সহ্য করেছেন। আওয়ামী লীগের সময়কালে তিনি ৮৭টি মামলার আসামি হয়েছেন। তার স্বপ্ন, নিজ এলাকা কেশবপুর উপজেলাবাসীর সেবা করার। এই সেবা করার সুযোগ পাওয়ার জন্য, জাতীয়তাবাদী দলের পক্ষ থেকে তিনি মনোনয়ন প্রত্যাশী।
তিনি আশা করেন, ১৯৮৯ সালে বিএনপি নেতা মরহুম গাজী এরশাদ আলী এই আসন থেকে জয়লাভ করেছিলেন। জনগণের আশা-আকাক্সক্ষা ভেবে মনোনয়ন দিলে বিএনপির ৪৬ বছরের হারানো আসন পুনরুদ্ধার করবেন।
পৌর শহরের পথসভা শেষে তিনি উপজেলা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দদের সাথে নিয়ে ৩১ দফার লিফলেট বিতরণ করেন।
এর আগে দুপুরে নেতাকর্মীদের নিয়ে তিনি যশোর শহরের কারবালা কবরস্থানে বিএনপির প্রয়াত স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম ও কেশবপুর উপজেলার সাবেক সভাপতি আবু বকর আবুর কবর জিয়ারত করেন।
প্রসঙ্গত, কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণের বাবা মুক্তিযোদ্ধা কাজী রফিকুল ইসলাম। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন। শ্রাবণের আরও তিন ভাই উপজেলা যুবলীগ ও ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতা। দীর্ঘদিনের পারিবারিক রাজনৈতিক চর্চার বিপরীতে গিয়ে তিনি যোগ দেন বিএনপির রাজনীতিতে। আওয়ামী লীগ নেতার ছেলের বিএনপির রাজনীতি করার বিষয়টি শ্রাবণের বাবাও ভালোভাবে নেননি। একারণে ছেলের সঙ্গে ইতোমধ্যেই ছিন্ন করেছেন সম্পর্ক।
ছাত্রদল করার কারণে দেড় দশকের বেশি সময় ধরে শ্রাবণের পরিবার যোগাযোগ রাখেনি তার সঙ্গে। শ্রাবণও দীর্ঘদিন বাড়িতে যান না। এমনকি পারিবারিক কোনো অনুষ্ঠানেও অংশ নেন না তিনি।
বিএনপির নেতাকর্মীরা বলছেন, আগামি ত্রয়োদশ নির্বাচনের আগে কেশবপুরে কাজী রওনাকুল ইসলাম শ্রাবণের আসাকে রাজনীতিক নয়া মেরুকরণ হয়েছে। স্থানীয় রাজনীতিতে গ্রুপিংয়ের কারণে দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি যেসকল নেতাকর্মী নিষ্ক্রিয় ছিলেন তারা যোগ দিয়েছেন শ্রাবণের এই কর্মসূচিতে। ফলে ৩১ দফার এই কর্মসূচি হলেও মূলত শ্রাবণের এটি ছিল কেশবপুরের রাজনীতিক প্রত্যাবর্তন।



















