ঢাকা ০৪:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

যবিপ্রবিতে বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস পালন

প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০২:০০:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১১৫ বার পড়া হয়েছে

যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মজিদ বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা উদ্বোধন করেন -কপোতাক্ষ

বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, কেক কাটা, আনন্দ শোভাযাত্রা, শপথ পাঠ, সেমিনার, নবীন বরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বিশ্বের ১২৯টি দেশের সাথে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস পালন করা হয়েছে।

আজ (সোমবার) দিনব্যাপি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন (পিটিআর) বিভাগের উদ্যোগে এসব কর্মসূচি পালন করা হয়।

বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবসের এবারের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ‘যৌবনেই সুস্থ্য বার্ধক্যের প্রস্তুতি জরুরি’। দিবসটি প্রতিবছর ৮ সেপ্টেম্বর বিশ্বব্যাপি পালিত হয়। দিবসটি পালনের মূল লক্ষ্য হলো বার্ধক্যকালে শরীরকে সুস্থ রাখা, দুর্বলতা এবং পড়ে যাওয়ার মতো সমস্যা প্রতিরোধে ফিজিওথেরাপি ও শারীরিক কার্যকলাপের গুরুত্ব সম্পর্কে সাধারণ জনগণকে সচেতন করা।

সকালে যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মজিদ বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা উদ্বোধনের মাধ্যমে কর্মসূচির শুভসূচনা করেন। এরপর ছিল কেককাটা ও আনন্দ শোভাযাত্রা।

শোভাযাত্রাটি যবিপ্রবির ডা. এম আর খান মেডিকেল সেন্টার থেকে শুরু হয়ে কবি নজরুল একাডেমিক ভবন ও স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু একাডেমিক ভবন প্রদক্ষিণ করে প্রশাসনিক ভবনের সামনে শেষ হয়।

রোটারি ক্লাব থেকে আগত বৃদ্ধাশ্রমের প্রবীণ অতিথিদের জন্য আয়োজিত বিভিন্ন হেলথ সেশন, এক্সারসাইজ ও ইনডোর গেমস্ আয়োজন করা হয়।

সারাদিনের অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে বিকেলে অধ্যাপক মোহাম্মদ শরীফ হোসেন গ্যালারিতে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মজিদ বলেন, বাংলাদেশের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন (পিটিআর) বিভাগ খোলা হয়। এ বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ইতোমধ্যে এ অঞ্চলের বিভিন্ন গ্রামেগঞ্জে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পসহ নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্য সেবার বিভিন্ন ধারার মধ্যে ফিজিওথেরাপি একটি। স্বাস্থ্য সেবার প্রতিটি ধারার সেবা সঠিকভাবে প্রদান করলেই একজন রোগীর সঠিক চিকিৎসা সম্ভব।

উপাচার্য জানান, তিনি নিজে কিছুদিন ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা গ্রহণ করছেন এবং ভালো আছেন।

তিনি ফিজিওথেরাপি সেবাদানকারী সকলের উদ্দেশ্যে বলেন, তোমাদের নিজেদের ফিজিওথেরাপি সংক্রান্ত উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে এবং নিজেকে আরও দক্ষ ও গুণগতমানসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে, তবেই তোমরা সকলকে সঠিকমানের সেবা দিতে পারবে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়টি শহর থেকে দূরে প্রান্তিক অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় আমরা সবাইকে চিকিৎসা সেবার আওতায় আনতে পারছি না। এ কারণে যশোর শহরে উন্নতমানের ফিজিওথেরাপি সেন্টার ও আধুনিক গবেষণাগার স্থাপন করা হবে। সেটি স্থানীয় রোগীর পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকে আগত রোগীদের জন্য আধুনিক ও গুণগতমানসম্মত স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করবে।

ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের সভাপতি ডা. এহসানুর রহমানের সভাপতিত্বে সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) খান মাসুম বিল্লাহ, স্বাস্থ্যবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. জাফিরুল ইসলাম, প্রবীণ বিষয়ে লেখক ও গবেষক হাসান আলী, প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের কনসালটেন্ট ডা. বাপ্পী কবিশেখর পারমিতা প্রমুখ।

সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে যবিপ্রবি পিটিআর বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

পিটিআর বিভাগের প্রভাষক ডা. কাজী মো. আরমান হোসেন অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।

সন্ধ্যায় পিটিআর বিভাগের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

যবিপ্রবিতে বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস পালন

আপডেট সময় : ০২:০০:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫

বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, কেক কাটা, আনন্দ শোভাযাত্রা, শপথ পাঠ, সেমিনার, নবীন বরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বিশ্বের ১২৯টি দেশের সাথে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস পালন করা হয়েছে।

আজ (সোমবার) দিনব্যাপি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন (পিটিআর) বিভাগের উদ্যোগে এসব কর্মসূচি পালন করা হয়।

বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবসের এবারের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ‘যৌবনেই সুস্থ্য বার্ধক্যের প্রস্তুতি জরুরি’। দিবসটি প্রতিবছর ৮ সেপ্টেম্বর বিশ্বব্যাপি পালিত হয়। দিবসটি পালনের মূল লক্ষ্য হলো বার্ধক্যকালে শরীরকে সুস্থ রাখা, দুর্বলতা এবং পড়ে যাওয়ার মতো সমস্যা প্রতিরোধে ফিজিওথেরাপি ও শারীরিক কার্যকলাপের গুরুত্ব সম্পর্কে সাধারণ জনগণকে সচেতন করা।

সকালে যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মজিদ বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা উদ্বোধনের মাধ্যমে কর্মসূচির শুভসূচনা করেন। এরপর ছিল কেককাটা ও আনন্দ শোভাযাত্রা।

শোভাযাত্রাটি যবিপ্রবির ডা. এম আর খান মেডিকেল সেন্টার থেকে শুরু হয়ে কবি নজরুল একাডেমিক ভবন ও স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু একাডেমিক ভবন প্রদক্ষিণ করে প্রশাসনিক ভবনের সামনে শেষ হয়।

রোটারি ক্লাব থেকে আগত বৃদ্ধাশ্রমের প্রবীণ অতিথিদের জন্য আয়োজিত বিভিন্ন হেলথ সেশন, এক্সারসাইজ ও ইনডোর গেমস্ আয়োজন করা হয়।

সারাদিনের অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে বিকেলে অধ্যাপক মোহাম্মদ শরীফ হোসেন গ্যালারিতে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মজিদ বলেন, বাংলাদেশের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন (পিটিআর) বিভাগ খোলা হয়। এ বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ইতোমধ্যে এ অঞ্চলের বিভিন্ন গ্রামেগঞ্জে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পসহ নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্য সেবার বিভিন্ন ধারার মধ্যে ফিজিওথেরাপি একটি। স্বাস্থ্য সেবার প্রতিটি ধারার সেবা সঠিকভাবে প্রদান করলেই একজন রোগীর সঠিক চিকিৎসা সম্ভব।

উপাচার্য জানান, তিনি নিজে কিছুদিন ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা গ্রহণ করছেন এবং ভালো আছেন।

তিনি ফিজিওথেরাপি সেবাদানকারী সকলের উদ্দেশ্যে বলেন, তোমাদের নিজেদের ফিজিওথেরাপি সংক্রান্ত উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে এবং নিজেকে আরও দক্ষ ও গুণগতমানসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে, তবেই তোমরা সকলকে সঠিকমানের সেবা দিতে পারবে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়টি শহর থেকে দূরে প্রান্তিক অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় আমরা সবাইকে চিকিৎসা সেবার আওতায় আনতে পারছি না। এ কারণে যশোর শহরে উন্নতমানের ফিজিওথেরাপি সেন্টার ও আধুনিক গবেষণাগার স্থাপন করা হবে। সেটি স্থানীয় রোগীর পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকে আগত রোগীদের জন্য আধুনিক ও গুণগতমানসম্মত স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করবে।

ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের সভাপতি ডা. এহসানুর রহমানের সভাপতিত্বে সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) খান মাসুম বিল্লাহ, স্বাস্থ্যবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. জাফিরুল ইসলাম, প্রবীণ বিষয়ে লেখক ও গবেষক হাসান আলী, প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের কনসালটেন্ট ডা. বাপ্পী কবিশেখর পারমিতা প্রমুখ।

সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে যবিপ্রবি পিটিআর বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

পিটিআর বিভাগের প্রভাষক ডা. কাজী মো. আরমান হোসেন অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।

সন্ধ্যায় পিটিআর বিভাগের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।