ঢাকা ০৪:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগ

রাজারহাটে মাদক অভিযানে সিআইডি পুলিশের উপর হামলা, আহত ৪

প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০২:০৪:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ৩৫৮ বার পড়া হয়েছে

অভিযানে গিয়ে গণপিটুনিতে হামলার শিকার হয়েছে সিআইডি পুলিশের সদস্য -কপোতাক্ষ

যশোরে অভিযানে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছে সিআইডি পুলিশের চার সদস্য। গণপিটুনিতে আহত হন তারা। তাদের মধ্যে শহিদুল ইসলাম নামে এক কন্সটেবলকে গুরুতর অবস্থায় যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগ আনা হলেও অস্বীকার করেছে সিআইডি পুলিশ। বুধবার সন্ধ্যায় যশোরের রাজারহাট মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় আজ (বৃহস্পতিবার) পুলিশ বাদী হয়ে দুটি মামলা করেছে অভিযুক্ত তুষারসহ অজ্ঞাত আসামী করে।

সিআইডি পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে এসআই হাবিব, এসআই তরিকুল ইসলাম, এএসআই মো. জাহিদ হোসেন এবং কনস্টেবল শহিদুল ইসলাম নিয়ে গঠিত একটি দল রাজারহাট এলাকায় অভিযান চালায়। এসময় তারা ঐ এলাকার মাসুদ রানার ছেলে তুষারকে কাশ্মীরি বিরিয়ানি হাউজের ভিতরে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে তল্লাশি করে।

একপর্যায়ে তার কাছ থেকে ২০ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া গেছে দাবি করে সিআইডি। এসময় তুষার সিআইডি সদস্যদের ‘ভুয়া পুলিশ’ বলে চিৎকার শুরু করে। এসময় স্থানীয় কয়েকজন সিআইডি পুলিশদের উপর হামলা চালায়।

পরবর্তীতে যশোর কোতোয়ালি থানা পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে। আহতদের মধ্যে কনস্টেবল শহিদুলের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

রাজারহাট এলাকার চা দোকানি মোতাহার হোসেন বলেন, ‘কাশ্মীরি বিরিয়ানি হাউজের সামনে থেকে মারামারি করতে করতে আমার দোকানের সামনে চলে আসে। সিআইডি পরিচয়ের উনারা সাদা পোশাকে ছিলেন। তারা যখন তুষারকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে, ও তখন বলছিল, আমার টাকা মোবাইল নিয়ে চলে যাচ্ছে, ভুয়া সিআইডি পরিচয়ে। আমাকে বাঁচাও। তখন কিছু লোক উত্তেজিত হয়ে তাদের উপর হামলা শুরু করে। এসময় সিআইডির দুজন পালিয়ে যায়। আর ঘটনাস্থলে দুজনকে বেধড়ক পিটিয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে আসলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

স্থানীয়রা জানায়, তুষারের নামে পূর্বে মাদকের কোনো মামলা নেই। তবে মারামারিসহ কয়েকটি মামলা রয়েছে। সিআইডি সদস্যদের অফিশিয়াল ড্রেস থাকলে এই ধরনের ঘটনা ঘটতো না।

এদিকে অভিযুক্ত তুষারের দাবি, ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করায় মারামারির সূত্রপাত হয়। তাকে একটি মোবাইল ভিডিওতে বলতে শোনা যায়, হঠাৎ দুইব্যক্তি তাকে ধরে কেয়া হোটেলের ভিতর নিয়ে যায়। এরপর পকেটে কি জানতে চাইলে তিনি পকেটে থাকা দুটি ফোন ও নগদ ৫ হাজার টাকা বের করে দেন। একপর্যায়ে ঐ দুই ব্যক্তির একজন মোবাইল ও টাকা নিয়ে চলে যেতে গেলে তিনি প্রতিবাদ করেন। এসময় একজন তার হাতে থাকা একটি পোটলা দেখিয়ে বলে তোর কাছে ইয়াবা পাওয়া গেছে। এসময় আমি তাকে ঘুষি মারলে স্থানীয়রাও মারপিটে অংশ নেয়।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে সিআইডি পুলিশের বিশেষ পুলিশ সুপার মোসা. সিদ্দিকা বেগম। তিনি বলেন, পুলিশ সদস্যরা অভিযানে গেছে। তারা কাউকে অহেতুক ফাঁসাতে যাবে কেন? তুষারের বিরুদ্ধে মামলাও আছে।

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনার প্রেক্ষিতে সরকারি কাজে বাধা ও মাদক ব্যবসার অভিযোগে তুষারের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৪-৫ জনের নামে মামলা হয়েছে। অভিযুক্তদের ধরতে যশোর কোতোয়ালি পুলিশ কাজ করছে।

এ ঘটনার পর থেকে মোড়ে স্থানীয়দের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে। ভয়ে মোড়ে অনেকেই আসছেন না।

অভিযানে গিয়ে গণপিটুনিতে হামলার শিকার হয়েছে সিআইডি পুলিশের চার সদস্য

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগ

রাজারহাটে মাদক অভিযানে সিআইডি পুলিশের উপর হামলা, আহত ৪

আপডেট সময় : ০২:০৪:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫

যশোরে অভিযানে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছে সিআইডি পুলিশের চার সদস্য। গণপিটুনিতে আহত হন তারা। তাদের মধ্যে শহিদুল ইসলাম নামে এক কন্সটেবলকে গুরুতর অবস্থায় যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগ আনা হলেও অস্বীকার করেছে সিআইডি পুলিশ। বুধবার সন্ধ্যায় যশোরের রাজারহাট মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় আজ (বৃহস্পতিবার) পুলিশ বাদী হয়ে দুটি মামলা করেছে অভিযুক্ত তুষারসহ অজ্ঞাত আসামী করে।

সিআইডি পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে এসআই হাবিব, এসআই তরিকুল ইসলাম, এএসআই মো. জাহিদ হোসেন এবং কনস্টেবল শহিদুল ইসলাম নিয়ে গঠিত একটি দল রাজারহাট এলাকায় অভিযান চালায়। এসময় তারা ঐ এলাকার মাসুদ রানার ছেলে তুষারকে কাশ্মীরি বিরিয়ানি হাউজের ভিতরে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে তল্লাশি করে।

একপর্যায়ে তার কাছ থেকে ২০ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া গেছে দাবি করে সিআইডি। এসময় তুষার সিআইডি সদস্যদের ‘ভুয়া পুলিশ’ বলে চিৎকার শুরু করে। এসময় স্থানীয় কয়েকজন সিআইডি পুলিশদের উপর হামলা চালায়।

পরবর্তীতে যশোর কোতোয়ালি থানা পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে। আহতদের মধ্যে কনস্টেবল শহিদুলের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

রাজারহাট এলাকার চা দোকানি মোতাহার হোসেন বলেন, ‘কাশ্মীরি বিরিয়ানি হাউজের সামনে থেকে মারামারি করতে করতে আমার দোকানের সামনে চলে আসে। সিআইডি পরিচয়ের উনারা সাদা পোশাকে ছিলেন। তারা যখন তুষারকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে, ও তখন বলছিল, আমার টাকা মোবাইল নিয়ে চলে যাচ্ছে, ভুয়া সিআইডি পরিচয়ে। আমাকে বাঁচাও। তখন কিছু লোক উত্তেজিত হয়ে তাদের উপর হামলা শুরু করে। এসময় সিআইডির দুজন পালিয়ে যায়। আর ঘটনাস্থলে দুজনকে বেধড়ক পিটিয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে আসলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

স্থানীয়রা জানায়, তুষারের নামে পূর্বে মাদকের কোনো মামলা নেই। তবে মারামারিসহ কয়েকটি মামলা রয়েছে। সিআইডি সদস্যদের অফিশিয়াল ড্রেস থাকলে এই ধরনের ঘটনা ঘটতো না।

এদিকে অভিযুক্ত তুষারের দাবি, ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করায় মারামারির সূত্রপাত হয়। তাকে একটি মোবাইল ভিডিওতে বলতে শোনা যায়, হঠাৎ দুইব্যক্তি তাকে ধরে কেয়া হোটেলের ভিতর নিয়ে যায়। এরপর পকেটে কি জানতে চাইলে তিনি পকেটে থাকা দুটি ফোন ও নগদ ৫ হাজার টাকা বের করে দেন। একপর্যায়ে ঐ দুই ব্যক্তির একজন মোবাইল ও টাকা নিয়ে চলে যেতে গেলে তিনি প্রতিবাদ করেন। এসময় একজন তার হাতে থাকা একটি পোটলা দেখিয়ে বলে তোর কাছে ইয়াবা পাওয়া গেছে। এসময় আমি তাকে ঘুষি মারলে স্থানীয়রাও মারপিটে অংশ নেয়।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে সিআইডি পুলিশের বিশেষ পুলিশ সুপার মোসা. সিদ্দিকা বেগম। তিনি বলেন, পুলিশ সদস্যরা অভিযানে গেছে। তারা কাউকে অহেতুক ফাঁসাতে যাবে কেন? তুষারের বিরুদ্ধে মামলাও আছে।

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনার প্রেক্ষিতে সরকারি কাজে বাধা ও মাদক ব্যবসার অভিযোগে তুষারের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৪-৫ জনের নামে মামলা হয়েছে। অভিযুক্তদের ধরতে যশোর কোতোয়ালি পুলিশ কাজ করছে।

এ ঘটনার পর থেকে মোড়ে স্থানীয়দের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে। ভয়ে মোড়ে অনেকেই আসছেন না।

অভিযানে গিয়ে গণপিটুনিতে হামলার শিকার হয়েছে সিআইডি পুলিশের চার সদস্য