যশোর জেলা জামায়াতের আমীরের মেয়ে নাগরিক ঐক্যের সদস্য সচিব
- আপডেট সময় : ০২:৪০:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৫ ৩০০ বার পড়া হয়েছে
নাগরিক ঐক্যের সদস্য সচিব জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর অধ্যাপক গোলাম রসূলের মেয়ে মেহজাবিন জান্নাত অনন্যা -কপোতাক্ষ ফাইল ছবি
যশোরের বাঘারপাড়ার উপজেলায় ১৯ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দিয়েছে নাগরিক ঐক্য। গত ১৮ আগস্ট সংগঠনটির জেলা আহ্বায়ক ফেরদৌস পরশ ও সদস্য সচিব মাসুম বিল্লাহ এই কমিটির অনুমোদন দেন।
কমিটিতে সদস্য সচিব করা হয়েছে জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর অধ্যাপক গোলাম রসূলের মেয়ে মেহজাবিন জান্নাত অনন্যাকে। আর আহ্বায়ক করা হয়েছে শামীম পারভেজকে। এছাড়া ১৭ জনকে সদস্য করা হয়েছে।
এদিকে, জেলা জামায়াতের আমীরের মেয়ে ইসলামী মতাদর্শের বাইরে একটি রাজনৈতিক দলে যোগ দেওয়ায় অনেকেই পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা-সমালোচনা করছেন। সমালোচনার মুখে কমিটির বাঘারপাড়া কমিটি থেকে অব্যাহতি নেওয়ারও আবেদন করেছেন জামায়াত নেতার মেয়ে।
তবে দলটির জেলার শীর্ষ নেতারা বলছেন, সমালোচনার মুখে বাবার নির্বাচনী আসন থেকে অব্যাহতি নিলেও তিনি সদর উপজেলার নাগরিক ঐক্য কমিটিতে থাকার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মেহজাবিন জান্নাত অনন্যা যশোর আদ্ দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। এছাড়া যশোরের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন যশোর কমিউনিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অনন্যা আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় অংশ নেন। গণঅভ্যুত্থানের পর যশোর কমিউনিটির কেউ কেউ নাগরিক পার্টিতে যোগদান করেন। পরবর্তীতে কয়েকজন নাগরিক পার্টি থেকে সরে এসে নাগরিক ঐক্যে যোগদান করেন। তারই ধারাবাহিকতায় মেহজাবিন জান্নাত অনন্যা বাঘারপাড়া কমিটি অনুমোদন দিলে সেই কমিটির সদস্য সচিবের দায়িত্ব পান।
জেলা জামায়াতে আমীরের মেয়ে হয়ে নাগরিক কমিটিতে যোগদান করায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা হয়। কমিটি অনুমোদন দেওয়ার দিনই সমালোচনাকারীদের নিয়ে অনন্যা তার ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। তিনি লিখেছেন, ‘সদ্য প্রকাশিত নাগরিক ঐক্য বাঘারপাড়া কমিটির সদস্য সচিব পদ থেকে অব্যাহতি নিলাম। এ বিষয়ে মিথ্যা এবং বানোয়াট কথা বলা থেকে বিরত থাকার জন্য সবাইকে অনুরোধ করছি। আমাকে ব্যক্তিগত আক্রমণ থেকে অন্যান্য দলের নেতাকর্মীরা যদি কোনো কমেন্ট বা পোস্ট করে তাহলে আমি আইনি সহায়তা নিব।’
এ বিষয়ে মেহজাবিন জান্নাত অনন্যা বলেন, আমি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত না। আমি জামায়াতের অঙ্গ সংগঠন ছাত্রী সংস্থা করতাম। সেখান থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সম্পৃক্ত হই। কমিটি অনুমোদনের বিষয়ে আমি কিছু জানি না। অনুমোদন হওয়ার সাথে সাথে ফেসবুকে আমি আমার স্টেটমেন্ট দিয়েছি।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভুলবশত তারা আমাকে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করেছে। তাদের জানিয়ে দিয়েছি আমি কোনো রাজনৈতিক দলে থাকবো না আপাতত। যদি কখনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত হই তাহলে সেটা হবে জামায়াত। কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়া ভুলবোঝাবুঝি, মিস ইনফরমেশন ছাড়া কিছুই নয়। তবে এটা নিয়ে ফেসবুকে সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে নাগরিক ঐক্য যশোর জেলার আহ্বায়ক ফেরদৌস পরশ বলেন, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ধারা ফিরিয়ে আনতে চাই। যে দল যার পছন্দ হবে, সেই দলের সঙ্গে সে যুক্ত হতে পারবে। এটাকে গণতন্ত্র বলে। সেই জায়গা থেকে চিন্তা করলে এটা তার গণতান্ত্রিক অধিকার। সে তার চিন্তা, চেতনায় যে দলকে ভালোবেসেছে, সেই জায়গায় এই দলে এসেছে। কমিটিতে তার সম্মতি না থাকলে আমরা কিভাবে তাকে কমিটিতে রাখলাম!
তিনি বলেন, কমিটি হওয়ার আগে তাকে সময় দেওয়া হয় ভাববার জন্য, যেহেতু তিনি জামায়াতের আমীরের মেয়ে। তার সম্মতির পরে তাকে কমিটিতে রাখা হয়েছে। কমিটি পাবলিশ হওয়ার পরে সমালোচনা ও তার বাবার রাজনীতিতে সমস্যা হবে এমনটি ভেবে আমাদের কাছে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করে। আমরা তাকে সময় দিই। পরে অনন্যা আমাদের জানায়, তার বাবা যেহেতু বাঘারপাড়া আসনে জামায়াতের সংসদ সদস্য প্রার্থী তাই বাঘারপাড়াতে তার কাজ করা সম্ভব না। তাই তিনি নাগরিক ঐক্য সদরের কমিটিতে আসতে চায়। যেহেতু এখনও সদরের কমিটি দেওয়া হয়নি; তাই তাকে আমরা বাঘারপাড়া থেকে সদরের কমিটিতে স্থানান্তর করার বিষয়ে চিন্তাভাবনা রেখেছি।









