ঢাকা ০৬:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

ভবদহে জলাবদ্ধতা আর কতদিন!

বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০২:৫৫:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৫ ২৮৭ বার পড়া হয়েছে

নদ-নদী ও খাল-বিলের নেটপাটা ও কচুরিপানা অপসারণের কাজ চলছে। ভবদহ ২১ ভেন্টের কাছ থেকে তোলা ছবি -কপোতাক্ষ

যশোরের দুঃখ ভবদহ সমস্যার সমাধানের দাবিতে আবারও মাঠে নেমেছে ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটি। জলাবদ্ধতা নিরসনে তারা ৬ দফা দাবি উত্থাপন করেছে। এসব দাবি আদায়ে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বরাবর দিয়েছে স্মারকলিপি।

পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে সমস্যার সমাধানে অতীতের চেয়ে এবার কাজের অগ্রগতি অনেক বেশি। যদিও টানা বৃষ্টিতে যশোরের তিন উপজেলার শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হওয়ায় দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। প্লাবিত গ্রামের অনেক বাড়িঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনায় হাটু কিংবা কোমর সমান পানি ঢুকে পড়েছে। এই অঞ্চলের নদীগুলো দিয়ে ঠিকমতো পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

ভবদহ অঞ্চল যশোরের অভয়নগর, মনিরামপুর, কেশবপুর এবং খুলনার ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলার অংশ বিশেষ নিয়ে গঠিত। এই এলাকার পানি ওঠানামা করে মুক্তেশ্বরী, টেকা, শ্রী ও হরি নদীর মাধ্যমে। তবে পলি পড়ে নদীগুলো নাব্যতা হারানোয় পানি নিষ্কাশনে সমস্যা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী এলাকার মানুষকে নিয়ে গত ৪ আগস্ট মনিরামপুরের মশিয়াহাটী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় এলাকার সাধারণ মানুষ অভিযোগে করে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তখনকার মন্ত্রী-এমপিরা ভবদহকে পুঁজি করে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করেছে। আর এবার তিন উপদেষ্টার এলাকা পরিদর্শনের পর মানুষ যখন আশায় বুক বেঁধেছে, তখন স্বার্থান্বেষী মহল ‘ভবদহের সুবিধাভোগী চক্র ঘের মালিকদের’ স্বার্থে প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে অন্তরায় সৃষ্টি করেছে। তারা বিএনপি ও জামায়াতের তিন নেতার নাম উল্লেখ করে দলের হাইকমান্ডের নজরে আনার আহ্বান জানান।

সভায় জানানো হয়, ২১ ভেন্টের আলোচিত ভবদহ স্লুইসগেটে ৬টি গেট চালু করায় প্রবল বেগে পানি নিষ্কাশিত হচ্ছে। সকল গেট খুলে দিলে দ্রুত পানি নিষ্কাশিত হবে বলে তারা মতামত দেন। পাশাপাশি আমডাঙ্গা খালের জমি অধিগ্রহণ, ৮১ কিলোমিটার নদী খনন প্রকল্পের কাজ শুরু, ঘের নীতিমালা বাস্তবায়ন ও টিআরএম বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়।

এদিকে সরকারের আশ্বাসের পরও জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজের দীর্ঘসূত্রতায় এবারও জলাবদ্ধতার বিপর্যয় দেখা দিয়েছে বলে দাবি ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির।

পানি উন্নয়ন বোর্ড যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী বলেন, ভবদহে অঞ্চলে অতীতের মতো এবার স্থায়ী জলাবদ্ধতার আশংকা নেই। দ্রুত পানি নিষ্কাশনে ইতোমধ্যে ৬টি স্লুইচ গেইট খুলে দেয়া হয়েছে। আরও দুটি স্লুইচ গেইট আজ-কালের মধ্যে খুলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এজন্য ডুবুরি নামিয়ে নিচের আবর্জনা পরিষ্কার করা হচ্ছে। সংলগ্ন বিভিন্ন নদ-নদী ও খাল-বিলের নেটপাটা ও কচুরিপানা অপসারণের কাজ চলছে। আশা করছি দ্রুত পানি নেমে যাবে। তিনি জানান, সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ৮১.৫ কিলোমিটার নদী খনন কাজ খুব শিগগিরই শুরু হবে। এলাকার পানি নিষ্কাশনের অন্যতম পথ আমডাঙ্গা খাল সংস্কারের জন্য ঠিকাদার নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

তবে জমি অধিগ্রহণের ধীরগতির কথা তিনি স্বীকার করেন। আর বহুল প্রত্যাশিত টিআরএম বা জোয়ারাধার প্রকল্প গ্রহণের জন্য আইডব্লিউএম-এর উদ্যোগে এলাকার ঘরে ঘরে গিয়ে সার্ভের কাজ চলছে জানিয়ে বলেন, প্রকল্পের অন্যতম বাঁধা ঘের মালিকরা এতদিন ইচ্ছে খুশিমতো চললেও এখন আর সেই সুযোগ নেই। তাদের নিবন্ধনের আওতায় এনে জটিলতা নিরসনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ভবদহে জলাবদ্ধতা আর কতদিন!

আপডেট সময় : ০২:৫৫:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৫

যশোরের দুঃখ ভবদহ সমস্যার সমাধানের দাবিতে আবারও মাঠে নেমেছে ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটি। জলাবদ্ধতা নিরসনে তারা ৬ দফা দাবি উত্থাপন করেছে। এসব দাবি আদায়ে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বরাবর দিয়েছে স্মারকলিপি।

পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে সমস্যার সমাধানে অতীতের চেয়ে এবার কাজের অগ্রগতি অনেক বেশি। যদিও টানা বৃষ্টিতে যশোরের তিন উপজেলার শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হওয়ায় দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। প্লাবিত গ্রামের অনেক বাড়িঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনায় হাটু কিংবা কোমর সমান পানি ঢুকে পড়েছে। এই অঞ্চলের নদীগুলো দিয়ে ঠিকমতো পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

ভবদহ অঞ্চল যশোরের অভয়নগর, মনিরামপুর, কেশবপুর এবং খুলনার ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলার অংশ বিশেষ নিয়ে গঠিত। এই এলাকার পানি ওঠানামা করে মুক্তেশ্বরী, টেকা, শ্রী ও হরি নদীর মাধ্যমে। তবে পলি পড়ে নদীগুলো নাব্যতা হারানোয় পানি নিষ্কাশনে সমস্যা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী এলাকার মানুষকে নিয়ে গত ৪ আগস্ট মনিরামপুরের মশিয়াহাটী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় এলাকার সাধারণ মানুষ অভিযোগে করে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তখনকার মন্ত্রী-এমপিরা ভবদহকে পুঁজি করে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করেছে। আর এবার তিন উপদেষ্টার এলাকা পরিদর্শনের পর মানুষ যখন আশায় বুক বেঁধেছে, তখন স্বার্থান্বেষী মহল ‘ভবদহের সুবিধাভোগী চক্র ঘের মালিকদের’ স্বার্থে প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে অন্তরায় সৃষ্টি করেছে। তারা বিএনপি ও জামায়াতের তিন নেতার নাম উল্লেখ করে দলের হাইকমান্ডের নজরে আনার আহ্বান জানান।

সভায় জানানো হয়, ২১ ভেন্টের আলোচিত ভবদহ স্লুইসগেটে ৬টি গেট চালু করায় প্রবল বেগে পানি নিষ্কাশিত হচ্ছে। সকল গেট খুলে দিলে দ্রুত পানি নিষ্কাশিত হবে বলে তারা মতামত দেন। পাশাপাশি আমডাঙ্গা খালের জমি অধিগ্রহণ, ৮১ কিলোমিটার নদী খনন প্রকল্পের কাজ শুরু, ঘের নীতিমালা বাস্তবায়ন ও টিআরএম বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়।

এদিকে সরকারের আশ্বাসের পরও জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজের দীর্ঘসূত্রতায় এবারও জলাবদ্ধতার বিপর্যয় দেখা দিয়েছে বলে দাবি ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির।

পানি উন্নয়ন বোর্ড যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী বলেন, ভবদহে অঞ্চলে অতীতের মতো এবার স্থায়ী জলাবদ্ধতার আশংকা নেই। দ্রুত পানি নিষ্কাশনে ইতোমধ্যে ৬টি স্লুইচ গেইট খুলে দেয়া হয়েছে। আরও দুটি স্লুইচ গেইট আজ-কালের মধ্যে খুলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এজন্য ডুবুরি নামিয়ে নিচের আবর্জনা পরিষ্কার করা হচ্ছে। সংলগ্ন বিভিন্ন নদ-নদী ও খাল-বিলের নেটপাটা ও কচুরিপানা অপসারণের কাজ চলছে। আশা করছি দ্রুত পানি নেমে যাবে। তিনি জানান, সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ৮১.৫ কিলোমিটার নদী খনন কাজ খুব শিগগিরই শুরু হবে। এলাকার পানি নিষ্কাশনের অন্যতম পথ আমডাঙ্গা খাল সংস্কারের জন্য ঠিকাদার নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

তবে জমি অধিগ্রহণের ধীরগতির কথা তিনি স্বীকার করেন। আর বহুল প্রত্যাশিত টিআরএম বা জোয়ারাধার প্রকল্প গ্রহণের জন্য আইডব্লিউএম-এর উদ্যোগে এলাকার ঘরে ঘরে গিয়ে সার্ভের কাজ চলছে জানিয়ে বলেন, প্রকল্পের অন্যতম বাঁধা ঘের মালিকরা এতদিন ইচ্ছে খুশিমতো চললেও এখন আর সেই সুযোগ নেই। তাদের নিবন্ধনের আওতায় এনে জটিলতা নিরসনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।