ঢাকা ০৭:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নিরসনে ৬ দফা দাবিতে স্মারকলিপি

ভবদহে আবারও জলাবদ্ধতায় শতাধিক গ্রাম প্লাবিত

প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০২:১৫:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ অগাস্ট ২০২৫ ১৪৭ বার পড়া হয়েছে

জলাবদ্ধতা নিরসনে ৬ দফা দাবিতে স্মারকলিপি দেয় ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটি -কপোতাক্ষ

যশোরের ভবদহ এলাকায় আবারও জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। টানা বৃষ্টিতে যশোরের অভয়নগর, মনিরামপুর ও কেশবপুর উপজেলার শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এসব গ্রামের অনেক বাড়িঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনায় হাটু কিংবা কোমর সমান পানি ঢুকে পড়েছে। এই অঞ্চলের নদীগুলো দিয়ে ঠিকমতো পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

এদিকে, জলাবদ্ধতা নিরসনে ৬ দফা দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছে ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটি।

আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার কাছে এ স্মারকলিপি দেয়া হয়। বর্তমান সরকারের আশ্বাসেও এ সমস্যা সমাধান না হওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নেতৃবৃন্দ।

ভবদহ অঞ্চল যশোরের অভয়নগর, মনিরামপুর, কেশবপুর এবং খুলনার ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলার অংশ বিশেষ নিয়ে গঠিত। এই এলাকার পানি ওঠানামা করে মুক্তেশ্বরী, টেকা, শ্রী ও হরি নদীর মাধ্যমে। তবে পলি পড়ে নদীগুলো নাব্যতা হারানোয় পানি নিষ্কাশনে সমস্যা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, বছরের পর বছর এই দুর্ভোগ নিরসনে নানা প্রকল্প নিলেও ভোগান্তি কমেনি। পাউবোর সুনিদিষ্ট পরিকল্পনাকেই দুষছেন ভুক্তভোগীরা। এমন পরিস্থিতিতে ভবদহ এলাকা পরিদর্শন করেছেন চায়নার বিশেষজ্ঞ একটি দল। তাদের মতামতেই ভবদহ জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে উদ্যোগ নেবে সরকার।

এদিকে সরকারের আশ্বাসের পরেও জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজের দীর্ঘসূত্রতায় এবারও জলাবদ্ধতার বিপর্যয় দেখা দিয়েছে বলে দাবি ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির।

ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির স্মারকলিপিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত টিআরএম (জোয়ারাধার) চালু করার দাবি জানান নেতৃবৃন্দ।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ৮০-র দশক থেকে যশোরের অভয়নগর, মনিরামপুর, কেশবপুর এবং খুলনার ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত ভবদহ এলাকার মানুষ স্থায়ী জলাবদ্ধতার শিকার। বর্তমান অন্তবর্তীকালীন সরকার সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নিলেও চলমান বৃষ্টিপাতের কারণে দেড় শতাধিক গ্রাম পানিতে তলিয়েছে। বসতবাড়ি, আবাদি ফসল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিপন্ন হচ্ছে। বিলম্বে হলেও বর্তমানে ভবদহ সুইসগেটে ২১ ভেন্টের ৮টি গেট চালু করার ফলে প্রবল বেগে পানি নিষ্কাশিত হচ্ছে। সকল গেট খুলে দেয়ার ব্যবস্থা করা গেলে দ্রুত জনপদের পানি নিষ্কাশিত হবে। পাশাপাশি আমডাঙ্গা খালের জমি অধিগ্রহণ, ৮১ কিলোমিটার নদী খনন প্রকল্পের কাজ শুরু, ঘের নীতিমালা বাস্তবায়ন ও টিআরএম বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়েছে।

স্মারকলিপি প্রদানকালে ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির উপদেষ্টা তসলিমুর রহমান, আহ্বায়ক রণজিৎ বাওয়ালী, সদস্য সচিব চৈতন্য কুমার পালসহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পানি উন্নয়ন বোর্ড যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী বলেন, ‘এবার ভবদহে অঞ্চলে স্থায়ী জলাবদ্ধতার আশংকা নেই। দ্রুত পানি নিষ্কাশনে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ৬টি স্লুইচ গেইট খুলে দেয়া হয়েছে। আরও দুটি স্লুইচ গেইট খুলে দেওয়ার প্রক্রিয়াধীন। এছাড়াও বিভিন্ন নদ, নদী ও খাল-বিলের নেটপাটা ও কচুরিপানা অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আশা করছি দ্রুত পানি নেমে যাবে। তিনি আরও বলেন, সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে দ্রুত নদী খনন কাজ শুরু হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

নিরসনে ৬ দফা দাবিতে স্মারকলিপি

ভবদহে আবারও জলাবদ্ধতায় শতাধিক গ্রাম প্লাবিত

আপডেট সময় : ০২:১৫:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ অগাস্ট ২০২৫

যশোরের ভবদহ এলাকায় আবারও জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। টানা বৃষ্টিতে যশোরের অভয়নগর, মনিরামপুর ও কেশবপুর উপজেলার শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এসব গ্রামের অনেক বাড়িঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনায় হাটু কিংবা কোমর সমান পানি ঢুকে পড়েছে। এই অঞ্চলের নদীগুলো দিয়ে ঠিকমতো পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

এদিকে, জলাবদ্ধতা নিরসনে ৬ দফা দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছে ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটি।

আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার কাছে এ স্মারকলিপি দেয়া হয়। বর্তমান সরকারের আশ্বাসেও এ সমস্যা সমাধান না হওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নেতৃবৃন্দ।

ভবদহ অঞ্চল যশোরের অভয়নগর, মনিরামপুর, কেশবপুর এবং খুলনার ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলার অংশ বিশেষ নিয়ে গঠিত। এই এলাকার পানি ওঠানামা করে মুক্তেশ্বরী, টেকা, শ্রী ও হরি নদীর মাধ্যমে। তবে পলি পড়ে নদীগুলো নাব্যতা হারানোয় পানি নিষ্কাশনে সমস্যা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, বছরের পর বছর এই দুর্ভোগ নিরসনে নানা প্রকল্প নিলেও ভোগান্তি কমেনি। পাউবোর সুনিদিষ্ট পরিকল্পনাকেই দুষছেন ভুক্তভোগীরা। এমন পরিস্থিতিতে ভবদহ এলাকা পরিদর্শন করেছেন চায়নার বিশেষজ্ঞ একটি দল। তাদের মতামতেই ভবদহ জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে উদ্যোগ নেবে সরকার।

এদিকে সরকারের আশ্বাসের পরেও জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজের দীর্ঘসূত্রতায় এবারও জলাবদ্ধতার বিপর্যয় দেখা দিয়েছে বলে দাবি ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির।

ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির স্মারকলিপিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত টিআরএম (জোয়ারাধার) চালু করার দাবি জানান নেতৃবৃন্দ।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ৮০-র দশক থেকে যশোরের অভয়নগর, মনিরামপুর, কেশবপুর এবং খুলনার ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত ভবদহ এলাকার মানুষ স্থায়ী জলাবদ্ধতার শিকার। বর্তমান অন্তবর্তীকালীন সরকার সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নিলেও চলমান বৃষ্টিপাতের কারণে দেড় শতাধিক গ্রাম পানিতে তলিয়েছে। বসতবাড়ি, আবাদি ফসল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিপন্ন হচ্ছে। বিলম্বে হলেও বর্তমানে ভবদহ সুইসগেটে ২১ ভেন্টের ৮টি গেট চালু করার ফলে প্রবল বেগে পানি নিষ্কাশিত হচ্ছে। সকল গেট খুলে দেয়ার ব্যবস্থা করা গেলে দ্রুত জনপদের পানি নিষ্কাশিত হবে। পাশাপাশি আমডাঙ্গা খালের জমি অধিগ্রহণ, ৮১ কিলোমিটার নদী খনন প্রকল্পের কাজ শুরু, ঘের নীতিমালা বাস্তবায়ন ও টিআরএম বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়েছে।

স্মারকলিপি প্রদানকালে ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির উপদেষ্টা তসলিমুর রহমান, আহ্বায়ক রণজিৎ বাওয়ালী, সদস্য সচিব চৈতন্য কুমার পালসহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পানি উন্নয়ন বোর্ড যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী বলেন, ‘এবার ভবদহে অঞ্চলে স্থায়ী জলাবদ্ধতার আশংকা নেই। দ্রুত পানি নিষ্কাশনে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ৬টি স্লুইচ গেইট খুলে দেয়া হয়েছে। আরও দুটি স্লুইচ গেইট খুলে দেওয়ার প্রক্রিয়াধীন। এছাড়াও বিভিন্ন নদ, নদী ও খাল-বিলের নেটপাটা ও কচুরিপানা অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আশা করছি দ্রুত পানি নেমে যাবে। তিনি আরও বলেন, সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে দ্রুত নদী খনন কাজ শুরু হবে।