অভয়নগরের সিদ্ধিপাশা ইউনিয়নের শান্তিপুর ও রামনগর গ্রাম
আতাই নদীর বাঁধ ভেঙ্গে দুই শতাধিক পরিবার পানিবন্দি
- আপডেট সময় : ০৩:৪২:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ জুলাই ২০২৫ ৩৬৪ বার পড়া হয়েছে
অব্যাহত বর্ষণ আর জোয়ারের পানিতে বাঁধ ভেঙ্গে যশোরের অভয়নগর উপজেলার দুই শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। আতাই নদীর বাঁধ ভেঙ্গে অভয়নগর উপজেলার সিদ্ধিপাশা ইউনিয়নের শান্তিপুর ও রামনগর গ্রামে এই প্লাবনের ঘটনা ঘটেছে।
পানির তোড়ে তলিয়ে গেছে ফসলি জমি, মাছের ঘের ও গ্রামীণ সড়ক। এলাকাবাসী দ্রুত টেকসই বাঁধ সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পার্থ প্রতিম শীলও দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, অভয়নগর উপজেলার সিদ্ধিপাশা ইউনিয়নে ভৈরব নদের ত্রিমোহনী থেকে বয়ে যাওয়া মজুদখালী নদীর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আতাই নদী। অব্যাহত বর্ষণ আর জোয়ারের পানির চাপে এই আতাই নদীর দুর্বল বাঁধের প্রায় ২ শত মিটার অংশ দিয়ে জোয়ারের পানি ঢুকে শান্তিপুর ও রামনগর গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
শান্তিপুর গ্রামের বাসিন্দা মিলন বিশ্বাস বলেন, কয়েকদিনের টানা বর্ষণে আতাই নদীর জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক ফুট বেড়ে যায়। সোমবার থেকে ঋষিপাড়া অংশে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুর্বল বাঁধের প্রায় ২শ’ মিটার দিয়ে পানি ঢুকতে শুরু করে। গত দু’দিন ধরে পানির চাপে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে পাশাপাশি দুই গ্রামের শত শত পরিবার। ভেসে গেছে মাছের ঘের। তলিয়ে গেছে গ্রামীণ সড়কসহ ফসলি জমি।
রামনগর গ্রামের বাসিন্দা সেলিম রহমান বলেন, আতাই নদীতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধ থাকলেও সংস্কার করা হয় না। যে কারণে বাঁধের দুর্বল অংশ দিয়ে জোয়ারের পানি ঢুকতে থাকে। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে আমাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবন যাপন করতে হয়। এই দুর্বল বাঁধকে টেকসই বাঁধে পরিণত করতে হবে। তাহলেই জোয়ারের পানি ঢোকা বন্ধ হবে।
সিদ্ধিপাশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ আবুল কাশেম বলেন, আমার ইউনিয়নের শান্তিপুর ও রামনগর গ্রাম জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে কথা বলে বাঁধ সংস্কারের ব্যবস্থা করা হবে।
এ ব্যাপারে অভয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পার্থ প্রতিম শীল জানিয়েছেন, সিদ্ধিপাশা ইউনিয়নের ২টি গ্রামে জোয়ারের পানি ঢুকে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা ওই বাঁধের দুর্বল অংশে প্রাথমিক সংস্কারের উদ্যোগ নেবে বলে জানিয়েছে। তাছাড়া বর্ষা মৌসুমের পর ওই বাঁধের টেকসই সংস্কার করা হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তারা।



















