ঢাকা ০৬:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

গণঅভুত্থানে শহীদদের স্মরণে বিএনপির বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচি

‘সবুজে পল্লবে স্মৃতিতে অম্লান’

প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০১:৪০:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ জুলাই ২০২৫ ৩৩৩ বার পড়া হয়েছে

অধ্যাপক নার্গিস বেগম ও অনিন্দ্য ইসলাম অমিত শহীদদের স্বজনদের নিয়ে বৃক্ষ রোপণ করেন -কপোতাক্ষ

দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ও জুলাই-আগস্টের গণঅভুত্থানে শহীদদের পরিবেশ বন্ধু গাছ রোপণের মাধ্যমে স্মরণ করলো যশোর জেলা বিএনপি। জুলাই-২০২৪ বর্ষপূতি উপলক্ষে বিএনপির ৩৬ দিনব্যাপি কর্মসূচির অংশ হিসেবে ‘সবুজে পল্লবে স্মৃতিতে অম্লান’ শ্লোগানে দেশব্যাপি বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।

আজ (রোববার) শহরের পৌর উদ্যানে এবং উপশহর পার্কে দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে জেলার প্রতিটি শহীদদের নামে একটি করে বৃক্ষ রোপণ করা হয়। এ সময় শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে জেলা বিএনপি ও জেলা কৃষক দলের যৌথ আয়োজনে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধণ করেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম। এ সময় তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছরের লড়াই-সংগ্রামসহ জুলাই অভ্যুত্থানে যারা জীবন দিয়েছেন,আমরা তাদের বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে স্মরণ করি। তাদের জীবনদানের মাধ্যমে আজ আমরা গণতন্ত্রের পথে একটি ধাপ অতিক্রম করতে পেরেছি। তাদের অবদান চিরকাল ধরে রাখার জন্য এবং আগামী প্রজন্ম তাদের যেন মনে রাখে তার জন্য প্রত্যেক শহীদদের নামে একটি করে গাছ লাগানো হবে। জুলাই বর্ষপূর্তিতে আমরা সকল শহীদদের নামে তাদের স্বজনদের হাত দিয়ে বৃক্ষ রোপণ করছি। যাতে করে শহীদদের নাম জনগণের হৃদয়ে অম্লান থাকে। এর মাধ্যমে আগামী প্রজন্ম ফ্যাসিস্ট পতনের সঠিক ইতিহাস জানতে পারবে। ফ্যাসিস্টমুক্ত করার পেছনে যারা নিজের জীবন উৎসর্গ করে গেছেন আমরা তাদের স্বজনদের সাথে দুঃখ বেদনা ভাগাভাগি করে নিতে চাই।

অনুষ্ঠানে বিএনপির খুলনা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, আমাদের প্রিয় নেতা তারেক রহমানের পক্ষ থেকে সীমিত সামর্থের মধ্য থেকে শহীদদের স্মরণ করার চেষ্টা করেছি। আমাদের নেতা তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের রায়ে আগামীতে বিএনপি দেশ পরিচালনার সুযোগ পেলে দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে যারা আত্মত্যাগ করেছেন, তাদের নামে একেকটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করতে চান, যাতে করে নিজ নিজ অঞ্চলের মানুষ শহীদদের নাম স্মরণ করতে পারে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মকবুল হোসেন। এ সময় বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাড. সৈয়দ সাবেরুল হকস সাবু, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী টি এস আইয়ূব প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জেলা কৃষক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হাবিবুল ইসলাম কচি।

পরে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় অধ্যাপক নার্গিস বেগম ও অনিন্দ্য ইসলাম অমিত শহীদদের স্বজনদের নিয়ে বৃক্ষ রোপণ করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক মফিকুল হাসান তৃপ্তি, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম, মুনির আহমেদ সিদ্দিকী বাচ্চু, শহিদুল বারী রবু, জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি গোলাম রেজা দুলু, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান খান, জেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব শিকদার সালাউদ্দিন প্রমুখ।

জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাড. সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু জানান, পৌর পার্কে যশোর সদর, শার্শা, ঝিকরগাছা, চৌগাছা উপজেলার ৪৬ জন এবং উপশহর পার্কে মনিরামপুর, কেশবপুর, বাঘারপাড়া এবং অভয়নগর উপজেলার ২২ জনসহ মোট ৬৮ জন শহীদের প্রত্যেকের নামে বৃক্ষ রোপণ করা হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

গণঅভুত্থানে শহীদদের স্মরণে বিএনপির বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচি

‘সবুজে পল্লবে স্মৃতিতে অম্লান’

আপডেট সময় : ০১:৪০:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ জুলাই ২০২৫

দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ও জুলাই-আগস্টের গণঅভুত্থানে শহীদদের পরিবেশ বন্ধু গাছ রোপণের মাধ্যমে স্মরণ করলো যশোর জেলা বিএনপি। জুলাই-২০২৪ বর্ষপূতি উপলক্ষে বিএনপির ৩৬ দিনব্যাপি কর্মসূচির অংশ হিসেবে ‘সবুজে পল্লবে স্মৃতিতে অম্লান’ শ্লোগানে দেশব্যাপি বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।

আজ (রোববার) শহরের পৌর উদ্যানে এবং উপশহর পার্কে দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে জেলার প্রতিটি শহীদদের নামে একটি করে বৃক্ষ রোপণ করা হয়। এ সময় শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে জেলা বিএনপি ও জেলা কৃষক দলের যৌথ আয়োজনে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধণ করেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম। এ সময় তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছরের লড়াই-সংগ্রামসহ জুলাই অভ্যুত্থানে যারা জীবন দিয়েছেন,আমরা তাদের বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে স্মরণ করি। তাদের জীবনদানের মাধ্যমে আজ আমরা গণতন্ত্রের পথে একটি ধাপ অতিক্রম করতে পেরেছি। তাদের অবদান চিরকাল ধরে রাখার জন্য এবং আগামী প্রজন্ম তাদের যেন মনে রাখে তার জন্য প্রত্যেক শহীদদের নামে একটি করে গাছ লাগানো হবে। জুলাই বর্ষপূর্তিতে আমরা সকল শহীদদের নামে তাদের স্বজনদের হাত দিয়ে বৃক্ষ রোপণ করছি। যাতে করে শহীদদের নাম জনগণের হৃদয়ে অম্লান থাকে। এর মাধ্যমে আগামী প্রজন্ম ফ্যাসিস্ট পতনের সঠিক ইতিহাস জানতে পারবে। ফ্যাসিস্টমুক্ত করার পেছনে যারা নিজের জীবন উৎসর্গ করে গেছেন আমরা তাদের স্বজনদের সাথে দুঃখ বেদনা ভাগাভাগি করে নিতে চাই।

অনুষ্ঠানে বিএনপির খুলনা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, আমাদের প্রিয় নেতা তারেক রহমানের পক্ষ থেকে সীমিত সামর্থের মধ্য থেকে শহীদদের স্মরণ করার চেষ্টা করেছি। আমাদের নেতা তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের রায়ে আগামীতে বিএনপি দেশ পরিচালনার সুযোগ পেলে দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে যারা আত্মত্যাগ করেছেন, তাদের নামে একেকটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করতে চান, যাতে করে নিজ নিজ অঞ্চলের মানুষ শহীদদের নাম স্মরণ করতে পারে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মকবুল হোসেন। এ সময় বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাড. সৈয়দ সাবেরুল হকস সাবু, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী টি এস আইয়ূব প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জেলা কৃষক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হাবিবুল ইসলাম কচি।

পরে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় অধ্যাপক নার্গিস বেগম ও অনিন্দ্য ইসলাম অমিত শহীদদের স্বজনদের নিয়ে বৃক্ষ রোপণ করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক মফিকুল হাসান তৃপ্তি, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম, মুনির আহমেদ সিদ্দিকী বাচ্চু, শহিদুল বারী রবু, জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি গোলাম রেজা দুলু, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান খান, জেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব শিকদার সালাউদ্দিন প্রমুখ।

জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাড. সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু জানান, পৌর পার্কে যশোর সদর, শার্শা, ঝিকরগাছা, চৌগাছা উপজেলার ৪৬ জন এবং উপশহর পার্কে মনিরামপুর, কেশবপুর, বাঘারপাড়া এবং অভয়নগর উপজেলার ২২ জনসহ মোট ৬৮ জন শহীদের প্রত্যেকের নামে বৃক্ষ রোপণ করা হয়।