দোয়া মাহফিলে বিএনপি ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম
দেশের মানুষ ভোটের অধিকার ফিরে পায়নি
- আপডেট সময় : ০৩:৫৯:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ জুলাই ২০২৫ ২৪৬ বার পড়া হয়েছে
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম বলেছেন, আজ রক্তস্নাত জুলাইয়ের বর্ষপূর্তি পালিত হয়েছে। গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের আশা আকাঙ্খা এবং স্বপ্ন নিয়ে শেখ হাসিনাকে দেশ থেকে বিতাড়িত করেছিলাম। কিন্তু জুলাই অভ্যুত্থানের এক বছর পরও দেশের মানুষ গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। আজও দেশের মানুষ ভোটের অধিকার ফিরে পায়নি। তাদের মানবাধিকার সমুন্নত হয়নি এবং আইনের শাসন থেকে বঞ্চিত।
আজ (শুক্রবার) বিকেলে দলীয় কার্যালয়ে দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ও জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল ও মৌন মিছিল পূর্ব সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় তিনি একথা বলেন।
যশোর জেলা বিএনপি আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, নতুন করে ফাঁদ পাতা হয়েছে। যেভাবে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা প্রতিনিয়ত ষড়যন্ত্রেও মাধ্যমে ১৬ বছর ক্ষমতা দখল করে রেখেছিল, ঠিক একইভাবে দেশি-বিদেশি শক্তি নতুন করে ফাঁদ পাতছে। যাতে করে বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তি একে অপরের প্রতিপক্ষ হয়ে রাজপথে অবস্থান নেয়। দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ হোক তারা সেটা চায়না।
খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, আনন্দ উৎসববের মাধ্যমে আজ গণতান্ত্রিক সরকারের অধীনে জুলাই অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উদযাপন করার কথা। কিন্তু একদিকে আমরা যেমন গণতান্ত্রিক অধিকার ফেরৎ পাইনি, অপরদিকে ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তির মধ্যে বিভেদ রেখা টানা হয়েছে। ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তির মধ্যে বিভেদ হলে কি হয়, তার ফলাফল আমরা গোপালগঞ্জে প্রত্যক্ষ করেছি। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা দেশের জনগণের যে মালিকানা কেড়ে নিয়েছিল, অন্তবর্তীকালীন সরকার সেই মালিকানা ফেরৎ দেয়নি। বিএনপি জনগণের মালিকানা ফেরৎ আনার জন্য লড়াই করছে। আজ আমাদের শপথ নিতে হবে যারা ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে নিজের জীবন বলিদান করে গেছে কোনোভাবেই যেন সেটি ব্যর্থ না হয়। তাদের রক্তের ঋণ পরিশোধের দায় রয়েছে বিএনপির। সে কারণে আজও বিএনপি রাজপথে লড়াই করছে। জনগণের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা আছে, এর বাইরে বিদেশে কোােন প্রভুর কাছে বিএনপির দায়বদ্ধতা নেই।
তিনি বলেন, আমাদের আর্দশের জনক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, আপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং আমাদের নেতা তারেক রহমান সম্পর্কে যখন অশ্লীল মন্তব্য এসেছে তখন সকলের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছে। তারপরও আমাদের সকল নেতাকর্মী সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন করে প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। সকল ষড়যন্ত্র এবং আমাদের নেতার নামে করা অশ্লীল মন্তব্যের জবাব, জনগণের মালিকানা ফেরৎ দেয়ার মাধ্যমে দেব ইনশাআল্লাহ।
দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাড. সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য প্রকৌশলী টি এস আইয়ূব, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম, মুনির আহমেদ সিদ্দিকী বাচ্চু, শহিদুল বারী রবু, সাবেক সহ-সভাপতি গোলাম রেজা দুলু, সাবেক সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য আব্দুস সালাম আজাদ, অ্যাড. হাজী আনিছুর রহমান মুকুল, নগর বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম চৌধুরী মুল্লুক চাঁদ, সাধারণ সম্পাদক এহসানুল হক সেতু, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আঞ্জুরুল হক খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, আশরাফুজ্জামান মিঠু, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক এম তমাল আহমেদ, সদস্য সচিব আনসারুল হক রানা, জেলা মহিলা দলের সভাপতি রাশিদা রহমান, সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা ফেরদৌসী বেগম, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোস্তফা আমির ফয়সাল, সদস্য সচিব রাজিদুর রহমান সাগর প্রমুখ।
দোয়া মাহফিল পরিচালনা করেন জেলা ওলামা দলের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মোশারফ হোসেন।
দোয়া মাহফিল শেষে নিহতদের স্মরণে দলীয় কার্যালয় থেকে ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম এবং খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের নেতৃত্বে জেলা বিএনপি কার্যালয় থেকে কালোব্যাজ ও পতাকা সম্বলিত মৌন মিছিল বের হয়।
মিছিলটি বঙ্গবাজার, চৌরাস্তা মোড়, আর এন রোড হয়ে মনিহারে গিয়ে শেষ হয়।



















