ঢাকা ০৬:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

যশোরে জুলাই পদযাত্রার পথসভায় নাহিদ ইসলাম

আগামীর আন্দোলন দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে

প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০১:১৪:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ জুলাই ২০২৫ ২৩৮ বার পড়া হয়েছে

এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জুলাই পদযাত্রার পথসভায় বক্তব্য দেন -কপোতাক্ষ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বিএনপিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন, একটি দল তাদের কোটি কোটি লোক আছে বলে জাহির করে। এনসিপিকে লোকের ভয় দেখাবেন না। এনসিপি জনগনের সাথে ইনসাফ করা লোক চায়। জুলাই পদযাত্রার ১১তম দিনে শুক্রবার বিকেলে যশোরে পথসভায় একথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, দুর্নীতি যারাই করবে এনসিপি তাদের ছাড় দেবে না। যদি এনসিপির নেতাকর্মীরাও দুর্নীতির সাথে যুক্ত হয়, দল তাদের বিরুদ্ধেও মাঠে নামবে। আমাদের আগামীর আন্দোলন দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে।

শহরের জজকোর্ট ঈদগাহ মোড়ে এনসিপি যশোর জেলা শাখা আয়োজিত এ পথসভায় দলের সদস্য সচিব আক্তার হোসেন বলেন, সংস্কারের আলাপ টেবিলে আছে, রাজপথে নামাতে বাধ্য করবেন না। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষ ভারতের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চায়, কিন্তু তাদের দাদাগিরি আমরা মেনে নেব না।

দলের উত্তরের মুখ্য সংগঠক সার্জিস আলমের সঞ্চালনায় পথসভায় দক্ষিণের মুখ্যসংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, কেউ কেউ এনসিপিকে নির্বাচনবিরোধী দল হিসেবে ট্যাগ দেওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু এনসিপি কখনও নির্বাচনবিরোধী দল নয়। আমরাও নির্বাচন চাই। তবে বিচার, সংস্কারসহ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দাবির প্যাকেজ বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন চাই না। প্রয়োজনে এসব দাবি বাস্তবায়নে আরেকবার গণঅভ্যুত্থান ঘটানো হবে। যারা এর বিরোধিতা করবে তাদের লাল কার্ড দেখানো হবে।

তিনি বলেন, আমরা যখন চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কথা বলি, তখন একটি রাজনৈতিক দলের মন খারাপ হয়। আমরা যখন নির্বাচন কমিশনের দ্বিচারিতার কথা বলি, তখন একটি রাজনৈতিক দল বেজার হয়। যখন আমরা একটি দলের টেন্ডারবাজির বিরুদ্ধে কথা বলি তখন তারা গোস্বা করে। যখন আমরা বলি, লন্ডনে বসে ষড়যন্ত্র হচ্ছে; তখন একটি দল বেজার হয়। আমরা চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে কথা বলছি। আপনাদের তো গায়ে লাগার কথা নয়। আপনারা যদি ফ্যাসিবাদ বিরোধী রাজনীতি করে থাকেন তাহলে তো গোস্বা করার কথা নয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন জাতীয় নাগরিক কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শামান্তা শারমিন, যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুম, মুখ্য সমন্বয়কারী নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী, ডা. তাসনিম জারাসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

এর আগে শুক্রবার দিনের প্রথম কর্মসূচি হিসেবে ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে যশোরে জুলাই আন্দোলনে আহত ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতারা। যশোর শহরের হোটেল ওরিয়নে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মতবিনিময় সভায় অংশ নেওয়া আহতরা অভিযোগ করেন, জুলাই আন্দোলনের এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও ঘোষণাপত্র, আহতদের স্বীকৃতি ও ‘জুলাই সনদ’ প্রদান, পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা বা পুনর্বাসনের কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তারা বলেন, নতুন রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন দেখালেও দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ধীরে ধীরে দায়িত্ব এড়িয়ে যাচ্ছেন। এতে তারা ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেন। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগেই ‘জুলাই সনদ’ ঘোষণা ও তা বাস্তবায়নের জোর দাবি জানান আহতরা।

এ সময় এনসিপি নেতারা তাদের বক্তব্যে আহতদের দাবির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার আন্দোলন জোরদার করার ঘোষণা দেন তারা।

সভায় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নুসরাত তাবাসসুম ও ডা. তাসনিম জারা, এবং অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতারা।

পরে স্থানীয় মডেল মসজিদে জুম্মার নামাজ আদায় শেষে পদযাত্রায় মিলিত হন নেতৃবৃন্দ।

পদযাত্রাটি মুজিব সড়ক হয়ে পথসভাস্থলে এসে শেষ হয়। এতে স্থানীয় নেতাকর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। এসময় তাদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা যায়।

পথসভা শেষে খুলনার উদ্দেশে রওনা হয় জুলাই পদযাত্রা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

যশোরে জুলাই পদযাত্রার পথসভায় নাহিদ ইসলাম

আগামীর আন্দোলন দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে

আপডেট সময় : ০১:১৪:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ জুলাই ২০২৫

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বিএনপিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন, একটি দল তাদের কোটি কোটি লোক আছে বলে জাহির করে। এনসিপিকে লোকের ভয় দেখাবেন না। এনসিপি জনগনের সাথে ইনসাফ করা লোক চায়। জুলাই পদযাত্রার ১১তম দিনে শুক্রবার বিকেলে যশোরে পথসভায় একথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, দুর্নীতি যারাই করবে এনসিপি তাদের ছাড় দেবে না। যদি এনসিপির নেতাকর্মীরাও দুর্নীতির সাথে যুক্ত হয়, দল তাদের বিরুদ্ধেও মাঠে নামবে। আমাদের আগামীর আন্দোলন দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে।

শহরের জজকোর্ট ঈদগাহ মোড়ে এনসিপি যশোর জেলা শাখা আয়োজিত এ পথসভায় দলের সদস্য সচিব আক্তার হোসেন বলেন, সংস্কারের আলাপ টেবিলে আছে, রাজপথে নামাতে বাধ্য করবেন না। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষ ভারতের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চায়, কিন্তু তাদের দাদাগিরি আমরা মেনে নেব না।

দলের উত্তরের মুখ্য সংগঠক সার্জিস আলমের সঞ্চালনায় পথসভায় দক্ষিণের মুখ্যসংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, কেউ কেউ এনসিপিকে নির্বাচনবিরোধী দল হিসেবে ট্যাগ দেওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু এনসিপি কখনও নির্বাচনবিরোধী দল নয়। আমরাও নির্বাচন চাই। তবে বিচার, সংস্কারসহ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দাবির প্যাকেজ বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন চাই না। প্রয়োজনে এসব দাবি বাস্তবায়নে আরেকবার গণঅভ্যুত্থান ঘটানো হবে। যারা এর বিরোধিতা করবে তাদের লাল কার্ড দেখানো হবে।

তিনি বলেন, আমরা যখন চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কথা বলি, তখন একটি রাজনৈতিক দলের মন খারাপ হয়। আমরা যখন নির্বাচন কমিশনের দ্বিচারিতার কথা বলি, তখন একটি রাজনৈতিক দল বেজার হয়। যখন আমরা একটি দলের টেন্ডারবাজির বিরুদ্ধে কথা বলি তখন তারা গোস্বা করে। যখন আমরা বলি, লন্ডনে বসে ষড়যন্ত্র হচ্ছে; তখন একটি দল বেজার হয়। আমরা চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে কথা বলছি। আপনাদের তো গায়ে লাগার কথা নয়। আপনারা যদি ফ্যাসিবাদ বিরোধী রাজনীতি করে থাকেন তাহলে তো গোস্বা করার কথা নয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন জাতীয় নাগরিক কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শামান্তা শারমিন, যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুম, মুখ্য সমন্বয়কারী নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী, ডা. তাসনিম জারাসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

এর আগে শুক্রবার দিনের প্রথম কর্মসূচি হিসেবে ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে যশোরে জুলাই আন্দোলনে আহত ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতারা। যশোর শহরের হোটেল ওরিয়নে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মতবিনিময় সভায় অংশ নেওয়া আহতরা অভিযোগ করেন, জুলাই আন্দোলনের এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও ঘোষণাপত্র, আহতদের স্বীকৃতি ও ‘জুলাই সনদ’ প্রদান, পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা বা পুনর্বাসনের কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তারা বলেন, নতুন রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন দেখালেও দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ধীরে ধীরে দায়িত্ব এড়িয়ে যাচ্ছেন। এতে তারা ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেন। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগেই ‘জুলাই সনদ’ ঘোষণা ও তা বাস্তবায়নের জোর দাবি জানান আহতরা।

এ সময় এনসিপি নেতারা তাদের বক্তব্যে আহতদের দাবির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার আন্দোলন জোরদার করার ঘোষণা দেন তারা।

সভায় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নুসরাত তাবাসসুম ও ডা. তাসনিম জারা, এবং অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতারা।

পরে স্থানীয় মডেল মসজিদে জুম্মার নামাজ আদায় শেষে পদযাত্রায় মিলিত হন নেতৃবৃন্দ।

পদযাত্রাটি মুজিব সড়ক হয়ে পথসভাস্থলে এসে শেষ হয়। এতে স্থানীয় নেতাকর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। এসময় তাদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা যায়।

পথসভা শেষে খুলনার উদ্দেশে রওনা হয় জুলাই পদযাত্রা।