নিম্নমানের সামগ্রি ব্যবহারের কারণে দুর্ঘটনার অভিযোগ
যশোরে নির্মাণাধীন ভবনের কার্নিশ ভেঙে দুই প্রকৌশলীসহ নিহত ৩
- আপডেট সময় : ০৯:৩০:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ জুলাই ২০২৫ ৩০৩ বার পড়া হয়েছে
যশোর শহরের সার্কিট হাউজপাড়ায় ইকবাল মঞ্জিল নামে একটি আটতলা নির্মাণাধীন ভবনের কার্নিশ ভেঙ্গে দুই প্রকৌশলীসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। আজ (মঙ্গলবার) দুপুর ১২টার দিকে যশোর শহরের সার্কিট হাউজ পাড়ার ইকবাল মঞ্জিলের নির্মাণাধীন বিল্ডিং ফর ফিউচার এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন : দিনাজপুরের বাসিন্দা প্রকৌশলী আজিজুর রহমান (৩৫), কুষ্টিয়ার বাসিন্দা প্রকৌশলী মিজানুর রহমান মিজান (৪০) ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাসিন্দা নুরু (৪৫), যিনি সাব-কন্ট্রাক্টরের কাজ করতেন। ত্রুটিপূর্ণ নির্মাণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সার্কিট হাউজপাড়ার ইকবাল মঞ্জিলের নির্মাণাধীন ষষ্ঠতলার সানসেটে তিনজন দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় হঠাৎ সেটি ভেঙ্গে নিচে পড়ে যায়। এসময় ঘটনাস্থলেই মারা যান দুই প্রকৌশলী। গুরুতর আহত অবস্থায় সাব-কন্ট্রাক্টর নুরু মিয়াকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তিনজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
ভবনের শ্রমিক মুজিবর রহমান জানান, মঙ্গলবার সকালে তারা ভবনের পশ্চিমাংশে নির্মাণকাজ করছিলেন। এ সময় ভবনটির নির্মাণাধীন কার্নিশ ভেঙ্গে তিনজন নিচে পড়ে যান। গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাদের মৃত বলে ঘোষণা করেন।
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মো. শাকিরুল ইসলাম জানান, নিহতদের মধ্যে দুইজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। হাসপাতালে আনার পর আরও একজনের মৃত্যু হয়। মাথায় আঘাতের ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
যশোর শহরের সার্কিট হাউজ পাড়ার বাসিন্দা ও জেলা যুবদলের আহ্বায়ক এম তমাল আহমেদ জানান, তাদের এলাকার ইকবাল মঞ্জিলটির ৬ তলার একপাশ নির্মাণ শেষ হলেও অন্যপাশ অর্থাৎ পশ্চিমপ্রান্ত নির্মাণাধীন ছিল। নির্মাণাধীন অংশের কার্নিশ ভেঙ্গে তিনজন নিহত হয়েছেন।
তমাল আহমেদ অভিযোগ করেছেন, ভবনটি ত্রুটিপূর্ণভাবে নির্মাণ করা হচ্ছিল। ভবনের গঠনশৈলী ও নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রির কারণে বিল্ডিংটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থায়ও ঘাটতি ছিল। এই সড়ক দিয়ে সাধারণ মানুষ প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছিলেন।
স্থানীয়দের দাবি, ভবনের কাজে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রি ব্যবহার করার ফলে এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে।
বিল্ডিং ফর ফিউচার লিমিটেডের ম্যানেজার বাবলু রহমান জানান, এই বিল্ডিংয়ের নির্মাণ কাজ ২০১০ সাল থেকে শুরু হয়েছিল। নিহতের মধ্যে দুইজন প্রকৌশলী ও একজন সাব কন্ট্রাক্টর রয়েছেন। কিভাবে দুর্ঘটনা ঘটলো সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল হাসনাত জানিয়েছেন, নির্মাণাধীন বিল্ডিংয়ের সানসেট ভেঙ্গে ৩ জন নিহত হয়েছেন। নিহত তিনজনের লাশ যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে রয়েছে। পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।



















