বর্ষা মওসুমে জলাবদ্ধতা প্রকট আকার ধারণ
যশোর শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক চলাচলের অনুপযোগী
- আপডেট সময় : ০৫:৫২:৩৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ জুন ২০২৫ ৪৫৫ বার পড়া হয়েছে
শহরের অন্যতম প্রধান সড়ক শাহ আবদুল করিম সড়কের বর্তমান অবস্থা দেখে বোঝার উপায় নেই এটা আসলেই পিচের রাস্তা -কপোতাক্ষ
যশোর শহরের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। যুগ যুগ এসব সড়কের সংস্কার বা উন্নয়ন না হওয়ায় বেহালদশায় রয়েছে। শিক্ষার্থী, এলাকাবাসী, নাগরিক আন্দোলনের মতো বহু প্লাটফর্ম থেকে স্মারকলিপি, মানববন্ধন, বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হলেও কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি। আন্দোলনকারী কিংবা গণমাধ্যমের কাছে সংশ্লিষ্ঠরা একটাই বুলি আওরান ‘খুব শিগগিরই’ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। তবে বড় দুটি প্যাকেজে ৫টি সড়ক নির্মাণ এবং ১৭টি সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হলেও এবারের বর্ষা মওসুমে সে দুর্যোগ কাটছে না বলে নিশ্চিত করেছে পৌর কর্তৃপক্ষ।
প্রতিবছর বর্ষা মওসুমে খড়কি এলাকায় জলাবদ্ধতা প্রকট আকার ধারণ করেছে। শাহ আবদুল করিম সড়কের রুপকথার মোড় থেকে খড়কি মোড় হয়ে পীরবাড়ি, কবরস্থান পর্যন্ত বৃষ্টির পানি জমে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে যায়। স্থানীয়রা কখনও ইট, কখনও ঘ্যাস ফেলে কোনোরকমে সড়কটি দিয়ে চলাচল করে থাকেন। খড়কি দক্ষিণপাড়া, পশ্চিমপাড়া, হাজামপাড়া, রেললাইন পাড়ার বাসিন্দাদের বাড়ির উঠানেও জমে যায় হাঁটু পানি। অথচ দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম বৃহত্তম সরকারি মাইকেল মধুসূদন মহাবিদ্যালয়ের সামনের প্রধান সড়কও এটি। পীরসহেবের বাড়িসহ অন্যতম আবাসিক এলাকাতে যাতায়াতের একমাত্র সড়কও এটাই। এই অবস্থা বছরের পর বছর চলে আসায় বিটুমিনের কার্পেটিং উঠে রাস্তার তলদেশের মাটি ও ইট বেরিয়ে পড়েছে। সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। সড়ক সংলগ্ন কলেজের ২৫ হাজার শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় অর্ধলক্ষাধিক মানুষের পথ চলাচলের কষ্ট অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে।
শহরের চোপদারপাড়া রোড, সন্নাসী দিঘির এলাকা, বেজপাড়া চোপদারপাড়া রোড, চোরমারা দিঘি রোড, গুরুদাস বাবু লেনসহ অর্ধশতাধিক সড়কের অবস্থা চরম খারাপ।
খড়কি এলাকার বাসিন্দা সরকারি এমএম কলেজের সহকারি অধ্যাপক হামিদুল হক শাহীন বলেন, ২০-২৫ বছর ধরেই আমরা বঞ্চিত। একের পর এক আশ্বাসই পেয়েছি। এখনও পাচ্ছি। বর্তমান পৌর প্রশাসক আশান্বিত করলেও যতটা দ্রুত গতিতে কাজ আশা করেছিলাম, ততটা গতি দেখছি না।
গুরুদাস বাবু লেনের বাসিন্দা অধ্যক্ষ মুস্তাক হোসেন শিম্বা বলেন, শহরের প্রধান স্যানিটারি ব্যবসা এই রোডে। এখানে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, মাধ্যমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিস রয়েছে। অথচ বৃষ্টি হলে এখানে হাঁটুপানি জমে। মানুষ মাছ ধরতে আসে এখানে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেকজন বাসিন্দা বলেন, এখানে একটা রডের দোকানে প্রচুর ওজনের ট্রাক ঢোকার কারণে রাস্তাটি ভেঙ্গেচুরে তছনছ হয়ে গেছে।
চোপদারপাড়া রোডের বাসিন্দা আমিনুজ্জামান কামাল বলেন, রাস্তা দিয়ে হাটাচলা করা যায় না। বৃষ্টিতে পুরো এলাকা তলিয়ে যায়। শুধু শুনেই আসছি রাস্তা মেরামত হবে। কাজ তো চোখেই দেখিনা।
পৌরসভার প্রকৌশল শাখা সূত্র জানায়, শহরের গুরুত্বপূর্ণ ৫টি সড়ক নতুন করে নির্মাণের জন্য গত ২৫ জুন ৩৫ কোটি ৯১ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এরমধ্যে শাহ আব্দুল করিম রোড ও খড়কি পোস্টাল কোয়ার্টার সাইড রোডের একটি প্যাকেজে ৮ কোটি ৩২ লাখ টাকা এবং নমঃশূদ্র পাড়া রোড (সন্নাসী দিঘির পাড় ও চাতাল মোড় এলাকা), চোপদারপাড়া রোড ও চোরমারা দিঘি রোডের অপর একটি প্যাকেজে ২৭ কেটি ৫৯ লাখ টাকা পাওয়া গেছে। রাস্তার পাশাপাশি এখানে সড়কবাতি স্থাপন ও ড্রেন নির্মাণ করা হবে। চলতি সপ্তাহেই এর টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে সূত্র জানায়।
এর বাইরে শহরের ১৭টি সড়কের ১৪ দশমিক ৬৬ কিলোমিটার রাস্তা ৭২ লাখ টাকা ব্যয়ে সংস্কার এবং ডিভাইডার রঙের কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। এটাও চলতি সপ্তাহে শুরু হবে বলে পৌর প্রশাসক নিশ্চিত করেছেন।
যশোর পৌরসভার সহকারি প্রকৌশলী (সিভিল) শিকদার মোকলেচুর রহমান বলেন, দুটি প্যাকেজের ৫টি সড়কের কাজ টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ করে আগামী অক্টোবর নাগাদ শুরু করতে পারব বলে আশা করছি। তবে তিনি স্বীকার করেন, বাজেট অপ্রতুলতার কারণে আরও প্রায় অর্ধ শতাধিক সড়ক সংস্কার কাজের বাইরে রয়েছে।
পৌর প্রশাসক মো. রফিকুল হাসান বলেন, এই মুহূর্তে খড়কি এলাকার ড্রেনের কাজসহ বেশকিছু কাজ চলমান রয়েছে। আমরা এখানে ইট-সুড়কি ফেলে পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দেয়ার চেষ্টা করছি। বর্ষা মওসুমে সত্যিই মানুষের কষ্ট হচ্ছে। কাজ করতে কিছু সময় তো আসলে লাগবেই। আমরা চেষ্টা করছি যতটা দ্রুততার সাথে সম্ভব পরিস্থিতির উন্নয়ন করা।


















