অভিযানে জব্দ ৬০ হাজার টাকার নিষিদ্ধ জাল
বাঁওড়ের দেশি মাছ শিকারে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল!
- আপডেট সময় : ১১:৪৭:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ জুন ২০২৫ ৪৮১ বার পড়া হয়েছে
যশোরের চৌগাছার বল্লভপুর বাঁওড়ের দেশীয় প্রজাতির মাছ ও জলপ্রাণি নিধনে দেদারসে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল। জোরপূর্বক দুর্বৃত্তরা বাঁওড়ের মাছ শিকারে প্রতিদিন শত শত নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করছে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে দেশীয় মাছ ও জলজপ্রাণি।
বুধবার বিকেলে বল্লভপুর বাঁওড়ে অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন, যার আনুমানিল মূল্য ৬০ হাজার টাকা। অভিযানে নেতৃত্ব দেন চৌগাছার সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাসমিন জাহান, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তাসলিমা জেবিন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যবৃন্দ।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তাসলিমা জেবিন জানান, অভিযান চলাকালে বল্লভপুর বাঁওড়ের বিভিন্ন স্থানে পেতে রাখা বেশ কয়েকটি অবৈধ চায়না জাল জব্দ করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৬০ হাজার টাকা। এ সময় স্থানীয়দের চায়না জালের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতন করা হয়।
তিনি আরও জানান, নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জালে ছোট-বড় সব ধরনের মাছ ধরা পড়ে। ফলে প্রাকৃতিক মাছের উৎপাদন কমে যায়। জলজ প্রাণীর স্বাভাবিক পরিবেশ বিনষ্ট হয়। সরকার চায়না দুয়ারী জালসহ ক্ষতিকর সবধরনের মাছ ধরার সরঞ্জাম নিষিদ্ধ করেছে। কিছু অসাধু ব্যক্তি নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে আসছে। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
জানা যায়, বল্লভপুর বাঁওড়ের ইজারাদার বল্লভপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি। ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর বাঁওড়ের মাছ লুট করে এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের নেতৃত্বে দুর্বৃত্তরা। পরবর্তীতে সমিতির সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি ও বাঁধা দিয়ে জোরপূর্বক দফায় দফায় মাছ লুট করেছে চক্রটি। দীর্ঘদিন ধরে সমিতির সদস্য বাঁওড়ে মাছ চাষের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে পায়নি। এই সুযোগে এলাকার দুর্বৃত্ত ও অসাধু মাছ শিকারীরা নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল দিয়ে দেশীয় মাছ নিধনে নেমেছে। দীর্ঘদিন সমিতির সদস্যরা তাদের নিষেধ করলেও শোনেনি। উল্টো নানাভাবে হুমকি ধামকি দিয়ে আসছে। প্রশাসনকে মৌখিক ও লিখিতভাবে জানানো হলেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বুধবার বিকেলে সহকারী কমিশনার-ভূমির নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে সামন্য পরিমাণ নিষিদ্ধ জাল জব্দ করা হয়েছে। কিন্তু অভিযুক্তদের জেল-জরিমানা করা হয়নি। বিপুল পরিমাণ জাল বাঁওড়ে পাতা থাকলেও সব জব্দ করতে পারেনি প্রশাসন।
ইজারাদার মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সদস্যরা জানান, ৫ আগস্টের পর নৈরাজ্য সৃষ্টি করে বাঁওড়ের মাছ দফায় দফায় লুট করা হয়েছে। বাঁওড়ে পোনা মাছের অস্তিত্ব নেই। বর্তমানে দেশীয় প্রজাতির মাছ নিধনে নেমেছে দুর্বৃত্তরা। তারা অবৈধ জাল ব্যবহার করছে। তাদের নিষেধ করলে উল্টো হুমকি ধামকি দিচ্ছে। প্রশাসনের নীরবতায় প্রায় ১০ মাস ধরে দুর্বৃত্তরা পোনা ও দেশীয় প্রজাতির মাছ লুট করছে। এতে সমিতির সদস্যদের পথে বসার উপক্রম। প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান ও তদারকি থাকলে অসাধু শিকারীদের তৎপরতা বন্ধ করা সম্ভব হবে।



















