পশুহাটের দেড় কোটি টাকার রাজস্ব লোপাট!
- আপডেট সময় : ০২:২১:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ জুন ২০২৫ ৩৫৭ বার পড়া হয়েছে
বিগত চার বছরে যশোরের চৌগাছা পশুরহাট থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকার রাজস্ব লোপাটের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, পৌরসভার সাবেক মেয়র নূর উদ্দীন আলম মামুন হিমেল ও ইজারাদার আবিদুর রহমান স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও বিএনপির প্রভাবশালী নেতাদের যোগসাজশে এই অর্থ আত্মসাত করেছেন। চক্রটি আবারও চৌগাছা পশুহাট দখলে নেওয়ার পাঁয়তারা করছে বলেও অভিযোগ।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২১ সালে ইয়ামুল অর রশীদ টিটো ৫৬ লাখ ২৮ হাজার ৫০০ টাকায় হাটের ডাক নেন। কিন্তু ২৬ লাখ ৪ হাজার ২শ’ টাকা এখনও পাবে পৌরসভা। অন্যদিকে ২০২২ সালে শামীম রেজা ৫৮ লাখ ৫০ হাজার টাকায় ইজারা নেন; কিন্তু তার কাছে ৫৫ লাখ ১২ হাজার টাকা পাবে পৌরসভা। ২০২৩ সালে আসিফ ইকবাল ভুট্টো ৫৯ লাখ ৫০ হাজার টাকায় হাটের ডাক নেন। তাদের কাছে পৌরসভা ৩৩ লাখ ৩৮ হাজার টাকা পাবে। ২০২৪ সালে মিজানুর রহমান ৮০ লাখ ১৫ হাজার টাকায় ইজারা নেন। সেখান থেকে পৌরসভা ৯ লাখ ৫৮ হাজার ৭৫০ টাকা পাবে।
অর্থাৎ গত চার বছরে এক কোটি ২৪ লাখ ১২ হাজার ৯৫০ টাকা রাজস্ব লোপাট করার তথ্য পাওয়া গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, এই রাজস্ব লোপাটের সঙ্গে জড়িত আওয়ামী লীগ নেতা পৌরসভার সাবেক মেয়র নূর উদ্দীন আলম মামুন হিমেল, ইয়ামুল অর রশীদ টিটো, শামীম রেজা, আসিফ ইকবাল ভুট্টো, মিজানুর রহমান, আবিদুর রহমান ও চৌগাছা বিএনপির প্রভাবশালী নেতা পাতিবিলা ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান লাল।
এদিকে, পৌর প্রশাসক এখনো এই টাকা আদায়ের ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেননি।
জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সব পৌর মেয়র ও কাউন্সিলরদের অপসারণ করে প্রশাসকদের নিয়োগ দেওয়া হয়। চৌগাছা পৌরসভার প্রশাসক হিসেবে প্রথমে সহকারী কমিশনার গুঞ্জন বিশ্বাস এবং পরে প্রকৌশলী তাসমিন জাহান নিয়োগ পান। নতুন পৌর প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েই তাসমিন জাহান পৌরসভার কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগ নেন।
তিনি ২০২৫ সালের জন্য চৌগাছা পৌরসভার সাধারণ হাট ও পশুহাটের প্রকাশ্য টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু করেন। এরপর শুরু হয় চৌগাছার পশু হাট নিয়ে রশি টানাটানি। সাবেক মেয়র হিমেলের লোকজন আবারও হাট দখল নিতে মরিয়া হয়ে ওঠে। টেন্ডার বাদেই হাট ইজারা নিতে ঝিনাইদহের আবিদুর রহমান বিএনপি নেতাদের সঙ্গে নিয়ে বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করেন। পরে হাটের দখল নিয়ে কোর্টে মামলা হয়। উচ্চ আদালতের পরবর্তী আদেশের ভিত্তিতে চৌগাছা পৌরসভার পশুহাটের কার্যক্রম পরিচালিত হবে এবং উচ্চ আদালতের আদেশ না আসা পর্যন্ত হাটের সকল রাজস্ব আদায় কার্যক্রম পৌরসভার তত্ত্বাবধানে অর্থাৎ খাস হিসেবে আদায়ের সিদ্ধান্ত হয়।
চৌগাছার ঠিকাদার আতিকুর রহমান লেন্টু বলেন, পৌরসভার সাবেক মেয়র হিমেল, টিটো, শামীম, ভুট্টো, মিজানুর রহমান এবং পাতিবিলা ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান লাল বিগত চার বছরে হাটের ইজারা প্রায় দেড় কোটি টাকা লোপাট করেছে। ডাকের টাকা পরিশোধ না করে হাট থেকে টাকা তুলেছে এবং বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে টাকা পকেটস্থ করেছেন।
তিনি আরও বলেন, সাবেক মেয়র হিমেলের খাস লোক আবিদুর রহমান ও বিএনপি নেতা লাল। তাদের মাধ্যমে হাট দখল নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
বিএনপি নেতা পাতিবিলা ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান লাল বলেন, পৌরসভা ও আমার শ্বশুরের জায়গা মিলে পশুর হাটটি তৈরি। এ কারণে আমাকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে জড়ানো হচ্ছে। আমি দখল ও অর্থ লোপাটের সঙ্গে জড়িত নই। তিনি বলেন, আমি ধানের শীষের লোক হয়ে পরপর তিন বার চেয়ারম্যান হয়েছি। অপকর্ম যা করার আওয়ামী লীগের লোক করেছে।
এ বিষয়ে চৌগাছা পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাসমিন জাহান বলেন, চৌগাছা পশু হাট নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। মামলা রায় হাতে পেলে নির্দেশ অনুযায়ী হাটের পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।



















