প্রাইভেটকার চালকই নগদের টাকা ছিনতাইয়ের নেপথ্যের নায়ক!
- আপডেট সময় : ০১:৫৩:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ জুন ২০২৫ ৩৫৫ বার পড়া হয়েছে
নগদ ডিস্ট্রিবিউটরের প্রাইভেটকারের চালকই টাকা ছিনতাইয়ের নেপথ্যের নায়ক বলে পুলিশ মনে করছে। মঙ্গলবার মণিরামপুরে নগদ’র ৩৫ লাখ টাকা ছিনতাই ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পার হবার আগেই পুলিশ রহস্য ভেদের পাশাপাশি ছিনতাই হওয়া ৩২ লাখ টাকাও উদ্ধার করেছে। গ্রেফতার করেছে ৭ জনকে।
মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে রাজারহাট-চুকনগর মহাসড়কের জামতলা দোনার নামক জায়গায় এ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে।
আজ (বুধবার) দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে ছিনতাই ঘটনার আদ্যপান্ত তুলে ধরেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নূরে আলম সিদ্দিকী।
গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন : নগদ’র ডিস্ট্রিবিউটরের গাড়িচালক শহরের পোস্টঅফিস পাড়া এলাকার খোরশেদ আলম মির্জার ছেলে ইউসুল আলী সাজু (৩১), ঝিকরগাছা উপজেলার বাকড়া দিকদানা গ্রামের ইসরাইল গাজীর ছেলে রনি গাজী (২৬), রাশেদুল ইসলাম খাঁর ছেলে সুজন ইসলাম (৩৩), দ্বীন মোহাম্মদের ছেলে ইমাদুল গাজী (৪৬), ইমদাদুল গাজীর ছেলে নাসিম গাজী (১৯), খোষালনগর গ্রামের মনিরুল ইসলামের ছেলে সাগর হোসেন (২৪) ও মজনুর রহমানের ছেলে সোহেল রানা (২১)।
নগদ’র এরিয়া ম্যানেজার রবিউল ইসলাম জানান, যশোর থেকে ব্যাগভর্তি ৫৫ লাখ টাকা নিয়ে তিনি প্রাইভেটকারযোগে মণিরামপুর অফিসের উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথিমধ্যে জামতলায় পৌঁছালে পিছন থেকে আসা দুই মোটরসাইকেল আরোহী প্রাইভেটকারের গতিরোধ করে। এরপর অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে প্রাইভেটকারের গ্লাস ভেঙ্গে ব্যাগভর্তি টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যশোরের দিকে চলে যায় দুর্বৃত্তরা। রবিউল তাৎক্ষণিক জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে ঘটনাটি জানান। তবে প্রাথমিকভাবে ৫৫ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ করা হলেও পরবর্তীতে তারা জানায় ৩৫ লাখ টাকা ছিনতাই হয়েছে।
পুলিশের সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নুর-ই-আলম সিদ্দিকী বলেন, ঘটনার আগে ও পরের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা এবং পুলিশি কলাকৌশল প্রয়োগ করে ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে ডিবিসহ জেলা পুলিশের একাধিক টিম বিভিন্ন স্থানে আসামিদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে অভিযান পরিচালনা করে। ছিনতাই ঘটনার কাজে ব্যবহৃত একটি আরটিআর মোটরসাইকেলের সূত্র ধরে আসামি সাগর হোসেনকে (২৪) ঝিকরগাছা উপজেলার খোষালনগর গ্রাম হতে গ্রেফতার ও আরটিআর মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়।
সাগর হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত অন্যান্য আসামিদের যশোর জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়। ধৃত আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, নগদের টাকা বহনকারী প্রাইভেটকার চালক ইউসুফ আলী সাজুর যোগসাজশে তারা এই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটায়।
পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃত আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে আসামিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ইমদাদুল গাজীর হেফাজত থেকে ১৬ লাখ ৫৫ হাজার ৫শ’ টাকা এবং সুজন ইসলামের বাড়ি থেকে ১৫ লাখ ৫০ হাজার টাকাসহ সর্বমোট ছিনতাইকৃত ৩২ লাখ ৫ হাজার ৫শ’ টাকা উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সাথে জড়িত থাকার বিষয়ে স্বীকার করে। এছাড়াও গ্রেফতারকৃত আসামিদের কাছ থেকে ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত দুটি চাপাতি ও লুন্ঠিত টাকা বহনকারী একটি ব্যাগ উদ্ধার করেছে পুলিশ।



















