বিএনপি ও যুবদল নেতার বাড়িতে কাফনের কাপড়, দা, চিরকুট
‘তোরা চাচা ভাইপো এলাকায় যা শুরু করেছিস, তোদের সময় শেষ’
- আপডেট সময় : ০৫:৩৩:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ জুন ২০২৫ ৫৫৭ বার পড়া হয়েছে
যশোরের মনিরামপুর উপজেলার ইত্যা গ্রামে বিএনপি ও যুবদল নেতার বাড়িতে কাফনের কাপড়ের টুকরো, দা, চিরকুট, গোলাপ পানিসহ দাফনের যাবতীয় জিনিসপত্র রেখে গেছে দুর্বৃত্তরা।
আজ (বৃহস্পতিবার) ভোররাতে কে বা কারা এগুলো রেখে যায়। চিরকুটে লেখা আছে ‘তোরা চাচা ভাইপো এলাকায় যা শুরু করেছিস, তোদের সময় শেষ’। এতে আতঙ্ক বিরাজ করছে এলাকাজুড়ে।
ভুক্তভোগীরা হলেন : উপজেলার কাশিমনগর ইউনিয়নের ইত্যা গ্রামের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শাহজান সরদার ও তার ভাইপো যুবদলের সদস্য আবু তাহের। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা মনিরামপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
পুলিশ ও ভোক্তভোগীরা জানান, পাশাপাশি দুটি বাড়িতে থাকেন বিএনপি নেতা শাহজাহান সরদার ও যুবদল নেতা আবু তাহের। প্রতিদিনের ন্যায় বুধবার রাতে তারা বাসায় ঘুমাতে যান। ভোরে বিএনপি নেতা শাহজাহান মসজিদে নামাজ পড়তে যাওয়ার উদ্দ্যেশ্যে ঘর থেকে বের হলে দেখেন উঠানের সামনে বেলগাছে একটি সাদা প্যাকেট ঝুলছে। কৌতুহলবশত প্যাকেটটি নামিয়ে দেখেন তার ভিতরে দুই টুকরা কাফনের কাপড়, দা, গোলাপ জল। ভিতরে একটি চিরকুট, আতর, আগরবাতি, সুরমাসহ দাফনের যাবতীয় জিনিসপত্র। টিরকুটে লেখা ‘তোরা চাচা ভাইপো এলাকায় যা শুরু করেছিস, তোদের সময় শেষ’। এরপর থেকে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। ঘটনার পর ভুক্তভোগীরা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন থানা পুলিশ।
ভুক্তভোগী ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শাহজান সরদার বলেন, ‘ভোরে প্যাকেটে কাপড়ের টুকরো, দা, চিরকুট দেখে আতঙ্কে আছি। বাড়ির লোকজন কান্নাকাটি করছে। এলাকায় খবর ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন পাড়া থেকে লোকজন আমাদের বাড়িতে আসছে। বিষয়টি স্থানীয় বিএনপি নেতা ও থানাতে অভিযোগ করেছি। ধারণা করছি, ২০২১ সালে স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগের নেতাকর্মীরা আমার বাড়িতে হামলা করেছিল। হত্যা করতে ব্যর্থ হওয়াতে এখন তারা নতুন করে পরিকল্পনা করছে। রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার করতে এই হুমকি দিয়েছে চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা।’
এ বিষয়ে কাশিমনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘আওয়ামী লীগ আমলেও শাহজাহানের বাড়িতে হামলা হয়েছিল। নেতৃত্ব দিয়েছিল স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এখন তারা এলাকাতে আধিপত্য বিস্তার করতে ত্রাস সৃষ্টি ও হুমকি দিতে এই কাজ ঘটিয়েছে। এই ঘটনার নিন্দা জানাচ্ছি।
মনিরামপুর থানার ওসি বাবলুর রহমান খান জানান, ভুক্তভোগী বিএনপি নেতা থানাতে একটা অভিযোগ দিয়ে গেছে। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ অনুসন্ধান শুরু করেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।



















