ঢাকা ০৬:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

বাইসাইকেল নিয়ে ভাইয়ের হাতে ভাইয়ের প্রাণ!

প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০২:০৫:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ জুন ২০২৫ ৩৯৬ বার পড়া হয়েছে

যশোরের চৌগাছায় তুচ্ছ ঘটনায় আপন বড় ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে প্রাণ হায়িয়েছে ছোট ভাই শিহাব হোসেন (২১)। আজ (সোমবার) বিকালে উপজেলার ধুলিয়ানী ইউনিয়নের শাহাজাদপুর গ্রামে ঘটে এ ঘটনা ঘটেছে। নিহত শিহাব কাতারপ্রবাসী মহিদুল ইসলামের মেজো ছেলে। ঘটনার পর থেকেই পলাতক অভিযুক্ত বড় ভাই সুমন।

পুলিশ ও নিহতের স্বজনেরা জানান, তিন ভাইয়ের মধ্যে মেজ শিহাব। সোমবার দুপুরে পার্শ্ববর্তী এক বাড়িতে দাওয়াত খাওয়ার জন্য বড় ভাই সুমনের সাইকেল নিয়ে যান তিনি। দাওয়াত খাওয়া শেষ করে বিকালে বাড়ি ফেরার পর সাইকেল ব্যবহার করা নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে শুরু হয় বাগবিতণ্ডা। একপর্যায়ে উত্তেজিত সুমন ছুরি দিয়ে শিহাবের পিঠে ছুরিকাঘাত করে। স্থানীয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।

শিহাবের মা তারা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘বাইসাইকেল নিয়ে ওদের মধ্যে ঝগড়া হচ্ছিল, দূর থেকেই টের পেয়েছিলাম। থামার কথা বলেছি, তার পরেও তারা থামেনি। তারপর ছুরি দিয়ে কখন কি করলো জানি না। চিৎকার শুনে দৌঁড়ে গিয়ে দেখি শিহাব রক্তে ভেসে যাচ্ছে। তখন সে আমাকে বলল, ‘আমাকে হাসপাতালে নিয়ে চলো, নাহলে আমি বাঁচব না।’ দ্রুত স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। তার পরেও সন্তানরে বাঁচাতে পারলাম না।’

চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আনোয়ারুল আবেদীন বলেন, নিহতের পিঠের বামদিকে ছুরির গভীর আঘাত ছিল, যা প্রাণঘাতী হয়ে দাঁড়ায়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে।

চৌগাছা থানার ওসি আনোয়ার হোসেন বলেন, এ ঘটনায় অভিযুক্ত সুমন পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বাইসাইকেল নিয়ে ভাইয়ের হাতে ভাইয়ের প্রাণ!

আপডেট সময় : ০২:০৫:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ জুন ২০২৫

যশোরের চৌগাছায় তুচ্ছ ঘটনায় আপন বড় ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে প্রাণ হায়িয়েছে ছোট ভাই শিহাব হোসেন (২১)। আজ (সোমবার) বিকালে উপজেলার ধুলিয়ানী ইউনিয়নের শাহাজাদপুর গ্রামে ঘটে এ ঘটনা ঘটেছে। নিহত শিহাব কাতারপ্রবাসী মহিদুল ইসলামের মেজো ছেলে। ঘটনার পর থেকেই পলাতক অভিযুক্ত বড় ভাই সুমন।

পুলিশ ও নিহতের স্বজনেরা জানান, তিন ভাইয়ের মধ্যে মেজ শিহাব। সোমবার দুপুরে পার্শ্ববর্তী এক বাড়িতে দাওয়াত খাওয়ার জন্য বড় ভাই সুমনের সাইকেল নিয়ে যান তিনি। দাওয়াত খাওয়া শেষ করে বিকালে বাড়ি ফেরার পর সাইকেল ব্যবহার করা নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে শুরু হয় বাগবিতণ্ডা। একপর্যায়ে উত্তেজিত সুমন ছুরি দিয়ে শিহাবের পিঠে ছুরিকাঘাত করে। স্থানীয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।

শিহাবের মা তারা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘বাইসাইকেল নিয়ে ওদের মধ্যে ঝগড়া হচ্ছিল, দূর থেকেই টের পেয়েছিলাম। থামার কথা বলেছি, তার পরেও তারা থামেনি। তারপর ছুরি দিয়ে কখন কি করলো জানি না। চিৎকার শুনে দৌঁড়ে গিয়ে দেখি শিহাব রক্তে ভেসে যাচ্ছে। তখন সে আমাকে বলল, ‘আমাকে হাসপাতালে নিয়ে চলো, নাহলে আমি বাঁচব না।’ দ্রুত স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। তার পরেও সন্তানরে বাঁচাতে পারলাম না।’

চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আনোয়ারুল আবেদীন বলেন, নিহতের পিঠের বামদিকে ছুরির গভীর আঘাত ছিল, যা প্রাণঘাতী হয়ে দাঁড়ায়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে।

চৌগাছা থানার ওসি আনোয়ার হোসেন বলেন, এ ঘটনায় অভিযুক্ত সুমন পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।