ঢাকা ০৪:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

আক্রান্ত নারীর সিজারের মাধ্যমে পুত্র সন্তান লাভ

অবশেষে এইডস্ আক্রান্ত গর্ভবতীর অপারেশন সম্পন্ন

প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০২:১৮:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ জুন ২০২৫ ৩৭৩ বার পড়া হয়েছে

সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে এইচআইভি-এইডসে আক্রান্ত গর্ভবতী সেই নারীর সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে। আজ (রবিবার) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে অপারেশন শুরু হয়ে চলে দুপুর ১২টা পর্যন্ত। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় ও গাইনি বিভাগের চিকিৎসকদের প্রচেষ্টায় গর্ভবতী ঐ নারী পুত্র সন্তানের জন্ম দিয়েছেন।

বর্তমানে মা ও শিশু দু’জন সুস্থ আছে। তাদের হাসপাতালের মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডের একটি কেবিনে নিবিড় পরিচর্যায় রাখা হয়েছে। এর আগে হাসপাতালে দ্বিধা-বিভক্তির সৃষ্টি হওয়ায় অপারেশন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিল।

এই নিয়ে হাসপাতালে দ্বিতীয়বারের মতো কোনো এইচআইভি-এইডসে আক্রান্ত গর্ভবতী নারীর সফল অপারেশন সম্পন্ন হলো।

এদিকে অপারেশন কার্যক্রম শেষে গাইনি বিভাগের অপারেশন থিয়েটার ৪৮ ঘন্টার জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছেন কর্তৃপক্ষ। তবে জরুরি প্রসূতি অপারেশন জেনারেল সার্জারির অপারেশন থিয়েটারে চলবে।

হাসপাতালের প্রশাসনিক ও গাইনি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, রবিবার হাসপাতালের গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. ইয়াসমিন আক্তার ও এনেস্থসিওলজিস্ট জাফর ইকবালের নেতৃত্বে ৭ সদস্যবিশিষ্ট মেডিকেল টিম এই অপারেশনে অংশ নেন। দীর্ঘ দুই ঘন্টা অপারেশন শেষে রোগীকে মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডের কেবিনে রাখা হয়। মা ও নবজাতক পুত্র সন্তান সুস্থ আছে।

গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. ইয়াসমিন আক্তার জানিয়েছেন, প্রসূতির অপারেশনে ব্যবহৃত ইন্সট্রুমেন্ট, মাফ, গজ, ব্যান্ডেজসহ অন্যান্য জিনিসপত্র আগুনে পুড়িয়ে মাটি চাপা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রসূতি অপারেশন থিয়েটার আগামী ৪৮ ঘন্টা অর্থাৎ দুইদিনের জন্য জীবাণুমুক্ত মেডিসিন দিয়ে বন্ধ রাখা হয়েছে। তিনি আরও জানান, এইডসে আক্রান্ত ঐ প্রসূতি ৩৬ সপ্তাহের গর্ভবতী ছিলেন। অপারেশনে আগে সামাজিক, শারীরিকসহ বিভিন্ন সমস্যার দেখা দেয় প্রসূতি নারীর। সকল সমস্যা উপেক্ষা করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় সফলভাবে অপারেশন করতে পারায় শুকরিয়া আদায় করেন। এই সাথে আগামীতে এ ধরনের রোগীদের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পৃথক অপারেশন থিয়েটারসহ রোগী রাখার সার্বিক ব্যবস্থার দাবি জানান।

যশোর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক হুসাইন শাফায়াত জানিয়েছেন, এইচআইডি এইডসে আক্রান্ত হওয়ার কারণে রোগী ও পরিবারের পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে। তবে প্রাথমিকভাবে, আক্রান্ত দুই নারীর এইচআইভি এইডসে আক্রান্ত হওয়ার পৃথক তথ্য পাওয়া গিয়েছে। এর মধ্যে একজন নারী তার স্বামীর মাধ্যমে এইডসে আক্রান্ত হয়েছেন। দ্বিতীয়টি হচ্ছে চিকিৎসা সংক্রান্ত সেবা নিতে গিয়ে কোনো না কোনোভাবে তিনি মরণব্যাধি এইচআইভি এইডসে আক্রান্ত হয়েছেন।

তিনি আরও জানান, আক্রান্ত এই নারীর পরিবারে অন্য কেউ এইচআইভি এইডস আক্রান্ত আছেন কিনা এ বিষয়ে এনজিওকর্মীরা খোঁজখবর নিচ্ছেন। এছাড়া নবাগত শিশুকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে শরীরে এইডসের আলামত না পাওয়া গেলে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

আক্রান্ত নারীর সিজারের মাধ্যমে পুত্র সন্তান লাভ

অবশেষে এইডস্ আক্রান্ত গর্ভবতীর অপারেশন সম্পন্ন

আপডেট সময় : ০২:১৮:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ জুন ২০২৫

সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে এইচআইভি-এইডসে আক্রান্ত গর্ভবতী সেই নারীর সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে। আজ (রবিবার) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে অপারেশন শুরু হয়ে চলে দুপুর ১২টা পর্যন্ত। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় ও গাইনি বিভাগের চিকিৎসকদের প্রচেষ্টায় গর্ভবতী ঐ নারী পুত্র সন্তানের জন্ম দিয়েছেন।

বর্তমানে মা ও শিশু দু’জন সুস্থ আছে। তাদের হাসপাতালের মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডের একটি কেবিনে নিবিড় পরিচর্যায় রাখা হয়েছে। এর আগে হাসপাতালে দ্বিধা-বিভক্তির সৃষ্টি হওয়ায় অপারেশন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিল।

এই নিয়ে হাসপাতালে দ্বিতীয়বারের মতো কোনো এইচআইভি-এইডসে আক্রান্ত গর্ভবতী নারীর সফল অপারেশন সম্পন্ন হলো।

এদিকে অপারেশন কার্যক্রম শেষে গাইনি বিভাগের অপারেশন থিয়েটার ৪৮ ঘন্টার জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছেন কর্তৃপক্ষ। তবে জরুরি প্রসূতি অপারেশন জেনারেল সার্জারির অপারেশন থিয়েটারে চলবে।

হাসপাতালের প্রশাসনিক ও গাইনি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, রবিবার হাসপাতালের গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. ইয়াসমিন আক্তার ও এনেস্থসিওলজিস্ট জাফর ইকবালের নেতৃত্বে ৭ সদস্যবিশিষ্ট মেডিকেল টিম এই অপারেশনে অংশ নেন। দীর্ঘ দুই ঘন্টা অপারেশন শেষে রোগীকে মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডের কেবিনে রাখা হয়। মা ও নবজাতক পুত্র সন্তান সুস্থ আছে।

গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. ইয়াসমিন আক্তার জানিয়েছেন, প্রসূতির অপারেশনে ব্যবহৃত ইন্সট্রুমেন্ট, মাফ, গজ, ব্যান্ডেজসহ অন্যান্য জিনিসপত্র আগুনে পুড়িয়ে মাটি চাপা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রসূতি অপারেশন থিয়েটার আগামী ৪৮ ঘন্টা অর্থাৎ দুইদিনের জন্য জীবাণুমুক্ত মেডিসিন দিয়ে বন্ধ রাখা হয়েছে। তিনি আরও জানান, এইডসে আক্রান্ত ঐ প্রসূতি ৩৬ সপ্তাহের গর্ভবতী ছিলেন। অপারেশনে আগে সামাজিক, শারীরিকসহ বিভিন্ন সমস্যার দেখা দেয় প্রসূতি নারীর। সকল সমস্যা উপেক্ষা করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় সফলভাবে অপারেশন করতে পারায় শুকরিয়া আদায় করেন। এই সাথে আগামীতে এ ধরনের রোগীদের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পৃথক অপারেশন থিয়েটারসহ রোগী রাখার সার্বিক ব্যবস্থার দাবি জানান।

যশোর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক হুসাইন শাফায়াত জানিয়েছেন, এইচআইডি এইডসে আক্রান্ত হওয়ার কারণে রোগী ও পরিবারের পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে। তবে প্রাথমিকভাবে, আক্রান্ত দুই নারীর এইচআইভি এইডসে আক্রান্ত হওয়ার পৃথক তথ্য পাওয়া গিয়েছে। এর মধ্যে একজন নারী তার স্বামীর মাধ্যমে এইডসে আক্রান্ত হয়েছেন। দ্বিতীয়টি হচ্ছে চিকিৎসা সংক্রান্ত সেবা নিতে গিয়ে কোনো না কোনোভাবে তিনি মরণব্যাধি এইচআইভি এইডসে আক্রান্ত হয়েছেন।

তিনি আরও জানান, আক্রান্ত এই নারীর পরিবারে অন্য কেউ এইচআইভি এইডস আক্রান্ত আছেন কিনা এ বিষয়ে এনজিওকর্মীরা খোঁজখবর নিচ্ছেন। এছাড়া নবাগত শিশুকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে শরীরে এইডসের আলামত না পাওয়া গেলে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।