ঢাকা ০৪:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

ট্রাকচাপায় কলেজছাত্র নিহত

নিমিষেই শেষ বিদেশ যাত্রার স্বপ্ন

প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৩:২৭:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ মে ২০২৫ ৫৬৪ বার পড়া হয়েছে

এক নিমিষেই শেষ হয়ে গেল কলেজছাত্র আসিফ হোসেনের বিদেশ যাওয়ার স্বপ্নসাধ। মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য পাসপোর্ট আনতে গিয়েছিলেন তিনি। ফেরার পথে ট্রাকের চাপায় মর্মান্তিকভাবে তিনি নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হন তার বন্ধু রাকিবুল ইসলাম শুভ।

আজ (রোববার) দুপুর ২টার দিকে যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়কের খয়েরতলা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও নিহতের স্বজনেরা সড়কে গাড়ি আটকে বিক্ষোভ করেন। পরে ফায়ার সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। নিহতের মরদেহ যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।

নিহত আসিফ সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের ঝাউদিয়া গ্রামের মেহের আলীর ছেলে। আর গুরুতর আহত রাকিবুল ইসলাম শুভ যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তারা দুজনেই পালবাড়িতে অবস্থিত টেকনিক্যাল অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।

নিহতের স্বজন ও পুলিশ জানিয়েছে, আগামী মাসে নিহত আসিফের মালয়েশিয়াতে যাওয়ার কথা ছিল। এজন্য যশোর পাসপোর্ট অফিসে পাসপোর্টের আবেদন করেন। আজ (রোববার) তার পাসপোর্ট দেওয়ার দিন ছিল। দুপুরে তার কলেজের বন্ধু রাকিবকে নিয়ে পাসর্পোট আনতে যান। ফেরার পথে যশোরের খয়েরতলা নামক স্থানে আসলে ঝিনাইদহ থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে তাদের মোটরসাইকেলের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই আসিফের মৃত্যু হয়। আর গুরুতর অবস্থায় স্থানীয়রা রাকিবুলকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। ঘটনার পর স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা ও নিহতের স্বজনেরা সড়কে গাড়ি আটকে দিয়ে বিক্ষোভ করেন।

ঘটনাস্থলেই আসেন নিহত আসিফের মা বাবা ও চাচা। অকালে এভাবে মারা যাওয়ার বিষয়টি মেনে নিতে পারছিলেন না তারা। তারা তিনজনেই সড়কের পাশে আহাজারি করছিলেন। স্থানীয়রা তাদের সান্তনা দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। বুকফাটা আর্তনাদ করছিলেন বাবা মেহের আলী। ভাইকে জড়িয়ে ধরে বলছিলেন, ‘আমার কি হয়ে গেল। আমার তো সব শেষ! হে মাবুদ তুমি আমার ছেলেটারে কেন এভাবে কেড়ে নিলে। ছেলেটারে বিদেশে পাঠাতে চাইছিলাম। কাগজপত্রও এসেছিল। আজ পাসপোর্ট দিবে বলে খুব খুশি ছিল। পাসপোর্ট আনতে গিয়ে ছেলেটার প্রাণটা চলে গেল। আমি কি নিয়ে বাঁচবো। বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় সাবধানে গাড়ি চালাতে বলেছিলাম। ছেলেটা ট্রাকের চাকায় চাপা পড়ে গেল। আমার স্বপ্নও শেষ হয়ে গেল।


আসিফ যেখানে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়; তার কয়েক গজ দূরেই টেকনিক্যাল অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট কলেজ। আসিফ নিহতের খবর পেয়ে তার বন্ধুরাও ছুটে আসেন ঘটনাস্থলে। এরপর তার স্বজন ও বন্ধুদের বুকফাটা আর্তনাদে শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয় খয়েরতলা এলাকায়।

যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল হাসনাত বলেন, ‘ঘাতক ট্রাকটি আটক করা হয়েছে । ট্রাকটির চালক পালিয়ে গেছে। মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। এই ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ট্রাকচাপায় কলেজছাত্র নিহত

নিমিষেই শেষ বিদেশ যাত্রার স্বপ্ন

আপডেট সময় : ০৩:২৭:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ মে ২০২৫

এক নিমিষেই শেষ হয়ে গেল কলেজছাত্র আসিফ হোসেনের বিদেশ যাওয়ার স্বপ্নসাধ। মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য পাসপোর্ট আনতে গিয়েছিলেন তিনি। ফেরার পথে ট্রাকের চাপায় মর্মান্তিকভাবে তিনি নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হন তার বন্ধু রাকিবুল ইসলাম শুভ।

আজ (রোববার) দুপুর ২টার দিকে যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়কের খয়েরতলা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও নিহতের স্বজনেরা সড়কে গাড়ি আটকে বিক্ষোভ করেন। পরে ফায়ার সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। নিহতের মরদেহ যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।

নিহত আসিফ সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের ঝাউদিয়া গ্রামের মেহের আলীর ছেলে। আর গুরুতর আহত রাকিবুল ইসলাম শুভ যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তারা দুজনেই পালবাড়িতে অবস্থিত টেকনিক্যাল অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।

নিহতের স্বজন ও পুলিশ জানিয়েছে, আগামী মাসে নিহত আসিফের মালয়েশিয়াতে যাওয়ার কথা ছিল। এজন্য যশোর পাসপোর্ট অফিসে পাসপোর্টের আবেদন করেন। আজ (রোববার) তার পাসপোর্ট দেওয়ার দিন ছিল। দুপুরে তার কলেজের বন্ধু রাকিবকে নিয়ে পাসর্পোট আনতে যান। ফেরার পথে যশোরের খয়েরতলা নামক স্থানে আসলে ঝিনাইদহ থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে তাদের মোটরসাইকেলের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই আসিফের মৃত্যু হয়। আর গুরুতর অবস্থায় স্থানীয়রা রাকিবুলকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। ঘটনার পর স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা ও নিহতের স্বজনেরা সড়কে গাড়ি আটকে দিয়ে বিক্ষোভ করেন।

ঘটনাস্থলেই আসেন নিহত আসিফের মা বাবা ও চাচা। অকালে এভাবে মারা যাওয়ার বিষয়টি মেনে নিতে পারছিলেন না তারা। তারা তিনজনেই সড়কের পাশে আহাজারি করছিলেন। স্থানীয়রা তাদের সান্তনা দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। বুকফাটা আর্তনাদ করছিলেন বাবা মেহের আলী। ভাইকে জড়িয়ে ধরে বলছিলেন, ‘আমার কি হয়ে গেল। আমার তো সব শেষ! হে মাবুদ তুমি আমার ছেলেটারে কেন এভাবে কেড়ে নিলে। ছেলেটারে বিদেশে পাঠাতে চাইছিলাম। কাগজপত্রও এসেছিল। আজ পাসপোর্ট দিবে বলে খুব খুশি ছিল। পাসপোর্ট আনতে গিয়ে ছেলেটার প্রাণটা চলে গেল। আমি কি নিয়ে বাঁচবো। বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় সাবধানে গাড়ি চালাতে বলেছিলাম। ছেলেটা ট্রাকের চাকায় চাপা পড়ে গেল। আমার স্বপ্নও শেষ হয়ে গেল।


আসিফ যেখানে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়; তার কয়েক গজ দূরেই টেকনিক্যাল অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট কলেজ। আসিফ নিহতের খবর পেয়ে তার বন্ধুরাও ছুটে আসেন ঘটনাস্থলে। এরপর তার স্বজন ও বন্ধুদের বুকফাটা আর্তনাদে শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয় খয়েরতলা এলাকায়।

যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল হাসনাত বলেন, ‘ঘাতক ট্রাকটি আটক করা হয়েছে । ট্রাকটির চালক পালিয়ে গেছে। মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। এই ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’