ঢাকা ০৪:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

ঝিকরগাছার বাজার দখলকে কেন্দ্র করে সংঘাত

বিএনপির দু’পক্ষের সংঘর্ষে কর্মী নিহত

প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৪:০৩:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ মে ২০২৫ ২৩৮ বার পড়া হয়েছে

সংঘর্ষে নিহত আশাদুল হক আশা -কপোতাক্ষ

যশোরের ঝিকরগাছায় বাজার দখলকে কেন্দ্র করে বিএনপির দু’পক্ষের সংঘর্ষে এক কর্মী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই গুরুতর জখম হয়েছেন। শনিবার (১০ মে) সন্ধ্যায় উপজেলার ছুটিপুর বাজারের জামতলা মোড়ে এ সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে গুরুতর আহত আশাদুল হক আশা (৪০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ (রোববার) ভোরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। নিহত আশাদুল হক আশা উপজেলার বালিয়া গ্রামের মৃত আতাউল হকের ছেলে।

এ ঘটনায় গুরুতর জখম নিহতের বড় ভাই মহিদুল ইসলাম যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সংঘর্ষের ঘটনায় নিহতের বোন নাসিমা বেগম বাদী হয়ে ১৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১৫-২০ জনের বিরুদ্ধে ঝিকরগাছা থানায় মামলা করেছেন। পুলিশ এজাহারনামীয় ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন : ওলিয়ার, সাহাঙ্গীর, রাকিব, জনাব আলি, আরব আলী ও আহমেদ আলী। এদের বাড়ি ছুটিপুর, কাগমারি, মোহাম্মদপুরসহ আশপাশের এলাকায়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বিগত সরকারের শাসনামলে বাড়ি বিক্রি করে এলাকা ছাড়েন আশাদুল হক আশা। গত ৫ এপ্রিল তিনি ওমান থেকে এলাকায় ফেরেন। শনিবার বিকেলে জামতলা মোড় স্থানীয় বিএনপি কার্যালয় থেকে নেতাকর্মীদের নিয়ে আশা ও তার ভাই মহিদুল একটি মহড়া দেন। এ সময় বিপ্লবের নেতৃত্বে বিএনপির অপর একটি পক্ষ বাধা দেন। এ নিয়ে দুইপক্ষের মধ্যে বাকবিতন্ডা থেকে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় হামলায় ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও দেশীয় অস্ত্র ব্যবহারের ঘটনা ঘটে। এতে গুরুতর আহত হন আশা ও মহিদুল।

প্রত্যক্ষদর্শী মহিদুল ইসলামের ছেলে শান্ত ইসলাম বলেন, ছুটিপুর বাজারে জামতলা মোড়ে আমার বাবা ও চাচাকে মোহন, নসু, বিপ¬ব, সাদ্দামসহ পাঁচজন মিলে কুপিয়ে আহত করে। পরে তাদের ভ্যানে দড়ি দিয়ে বেঁধে হাসপাতালে পাঠায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আটলিয়া গ্রামের এক বাসিন্দা বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে জামতলা বাজারে বিএনপির দু’গ্রুপের উত্তেজনা চলে আসছিল। এ ঘটনার জের ধরেই এ সংঘর্ষ ও হত্যাকাণ্ড।

ঝিকরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাবলুর রহমান খান বলেন, বাজার দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এজাহারনামীয় ছয় আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক আছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ঝিকরগাছার বাজার দখলকে কেন্দ্র করে সংঘাত

বিএনপির দু’পক্ষের সংঘর্ষে কর্মী নিহত

আপডেট সময় : ০৪:০৩:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ মে ২০২৫

যশোরের ঝিকরগাছায় বাজার দখলকে কেন্দ্র করে বিএনপির দু’পক্ষের সংঘর্ষে এক কর্মী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই গুরুতর জখম হয়েছেন। শনিবার (১০ মে) সন্ধ্যায় উপজেলার ছুটিপুর বাজারের জামতলা মোড়ে এ সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে গুরুতর আহত আশাদুল হক আশা (৪০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ (রোববার) ভোরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। নিহত আশাদুল হক আশা উপজেলার বালিয়া গ্রামের মৃত আতাউল হকের ছেলে।

এ ঘটনায় গুরুতর জখম নিহতের বড় ভাই মহিদুল ইসলাম যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সংঘর্ষের ঘটনায় নিহতের বোন নাসিমা বেগম বাদী হয়ে ১৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১৫-২০ জনের বিরুদ্ধে ঝিকরগাছা থানায় মামলা করেছেন। পুলিশ এজাহারনামীয় ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন : ওলিয়ার, সাহাঙ্গীর, রাকিব, জনাব আলি, আরব আলী ও আহমেদ আলী। এদের বাড়ি ছুটিপুর, কাগমারি, মোহাম্মদপুরসহ আশপাশের এলাকায়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বিগত সরকারের শাসনামলে বাড়ি বিক্রি করে এলাকা ছাড়েন আশাদুল হক আশা। গত ৫ এপ্রিল তিনি ওমান থেকে এলাকায় ফেরেন। শনিবার বিকেলে জামতলা মোড় স্থানীয় বিএনপি কার্যালয় থেকে নেতাকর্মীদের নিয়ে আশা ও তার ভাই মহিদুল একটি মহড়া দেন। এ সময় বিপ্লবের নেতৃত্বে বিএনপির অপর একটি পক্ষ বাধা দেন। এ নিয়ে দুইপক্ষের মধ্যে বাকবিতন্ডা থেকে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় হামলায় ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও দেশীয় অস্ত্র ব্যবহারের ঘটনা ঘটে। এতে গুরুতর আহত হন আশা ও মহিদুল।

প্রত্যক্ষদর্শী মহিদুল ইসলামের ছেলে শান্ত ইসলাম বলেন, ছুটিপুর বাজারে জামতলা মোড়ে আমার বাবা ও চাচাকে মোহন, নসু, বিপ¬ব, সাদ্দামসহ পাঁচজন মিলে কুপিয়ে আহত করে। পরে তাদের ভ্যানে দড়ি দিয়ে বেঁধে হাসপাতালে পাঠায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আটলিয়া গ্রামের এক বাসিন্দা বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে জামতলা বাজারে বিএনপির দু’গ্রুপের উত্তেজনা চলে আসছিল। এ ঘটনার জের ধরেই এ সংঘর্ষ ও হত্যাকাণ্ড।

ঝিকরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাবলুর রহমান খান বলেন, বাজার দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এজাহারনামীয় ছয় আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক আছে।