সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে অচিরেই ভবদহের নদী খনন শুরু হবে
যশোরের দুঃখ ‘ভবদহ এলাকা’ পরিদর্শনে তিন উপদেষ্টা
- আপডেট সময় : ০৮:২৭:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ এপ্রিল ২০২৫ ২৬১ বার পড়া হয়েছে
যশোরের দুঃখ হিসেবে পরিচিত ভবদহ জলাবদ্ধ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে পরিদর্শন করলেন মন্ত্রণালয়ের তিন উপদেষ্টা। আজ (মঙ্গলবার) বেলা পৌনে ১২টার দিকে ভবদহ স্লুইসগেট ২১ ভেন্ট এলাকা পরিদর্শন করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম, পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিন উপদেষ্টার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের সচিবরাও উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শন শেষে ভবদহ কলেজ মাঠে ব্রিফ করেন পানিসম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেন, গতবারের মতো এবার বর্ষায় যাতে জলাবদ্ধতা না হয়, সেজন্য সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ভবদহ এলাকার নদী খনন কাজ শুরু হবে। জলাবদ্ধতা নিরসন যেসব সেচ পাম্প কাজ করছে, সেগুলোর বিদ্যুৎ বিল ইতোমধ্যে ৪৬ শতাংশ কমিয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ। এ এলাকার জন্য কৃষি ব্যাংকের ঋণের সুদ মওকুফের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভবদহ জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান যাতে হয়, সে ব্যাপারে উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ২০০৫ সালে ভবদহ সমস্যার সমাধান করা সহজ ছিল। কিন্তু সে সময় সরকার সদিচ্ছা দেখায়নি। বর্তমান সরকার এ সমস্যার চিরস্থায়ী সমাধানের জন্য ইতোমধ্যে ফিজিবিলিটি স্ট্যাডি শুরু হয়েছে। পক্ষ-বিপক্ষ সবার কাছ থেকে এ ব্যাপারে মতামত নেওয়া হবে। এরপর বিশেষজ্ঞদের সাথে কথা বলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
এর আগে, মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে যশোরের অভয়নগরের নওয়াপাড়া সরকারি কলেজ মাঠে হেলিকপ্টারে নামেন তিন উপদেষ্টা। পরে ধান ক্ষেত পরিদর্শন করেন ৩ উপদেষ্টা। এর আগে থেকে ভবদহ পাড়ের মানুষেরা ভবদহ স্থায়ী সমাধানে বিভিন্ন দাবি দাওয়া সম্বলিত প্লাকার্ড নিয়ে অবস্থান নেন। এসময় তারা দ্রুত টিআরএম চালুসহ স্থানীয় নদীগুলো খনন করার দাবি জানান।
ভবদহ সংগ্রাম কমিটির উপদেষ্টা এবং বামনেতা ইকবাল কবির জাহিদ বলেন, তিন উপদেষ্টার একসঙ্গে আগমন এবার আমাদের দীর্ঘ আন্দোলনের প্রতিফলন। সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এর আগেও এসে কথা দিয়েছেন ভবদহের স্থায়ী সমাধানের। সেই ধারাবাহিকতায় আমডাঙ্গা খাল খননের টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আমাদের মূল দাবি ছিল সেচ পাম্প বন্ধ করে টিআরএম চালু করা। সেটিও এবার বাস্তবায়নের পথে।
তিনি আরও বলেন, বিগত সময়ে যারা প্রকল্পের নামে লুটপাট করেছে, তাদের বিচার চাই। উপদেষ্টাদের মতামতের ভিত্তিতেই পরবর্তী কর্মপন্থা নির্ধারণ করব।
ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক রণজিত বাওয়ালী জানান, উপদেষ্টার নির্দেশে ইতিমধ্যে কিছু পানিনিষ্কাশনের কাজ শুরু হয়েছে। এবার কৃষি ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টারাও এসেছেন। আমরা কৃষকদের ক্ষতিপূরণ, কৃষিঋণ মওকুফ এবং দুর্নীতির বিচার চাইছি।
উপদেষ্টাদের এমন সম্মিলিত পদক্ষেপে ভবদহবাসী এবার কার্যকর এবং টেকসই সমাধানের প্রত্যাশা করছে।
পরিদর্শন শেষে বিকেলে যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে সুধীসমাজ ও ভবদহ সংগ্রাম কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন উপদেষ্টারা।
উল্লেখ্য, যশোরের অভয়নগর, মনিরামপুর ও কেশবপুর এবং খুলনার ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলার অংশবিশেষ নিয়ে ভবদহ অঞ্চল। পলি পড়ে এই অঞ্চলের পানি নিষ্কাশনের মাধ্যম মুক্তেশ্বরী, টেকা, শ্রী ও হরি নদী নাব্য হারিয়েছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে নদী দিয়ে পানি নামতে পারে না। বর্ষায় জলাবদ্ধতায় ক্ষেতের ফসল, ঘেরের মাছ সবই কেড়ে নেয় পানি। জলাবদ্ধতায় মগ্ন থাকে শতাধিক গ্রামের ঘরবাড়ি, ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাট, কৃষিজমি এবং মাছের ঘের। এই অঞ্চলের ৪ লক্ষাধিক মানুষের ঠাঁই হয় মহাসড়কের ধারে, স্কুল কিংবা আশ্রয়কেন্দ্রে। অথচ বিগত চার দশকে ভবদহ অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রায় ৬৫০ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলেও জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান হয়নি। অভিযোগ, বিগত সরকারগুলোর স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তারা সিংহভাগ লুটপাট করেছে। তাই বছরের পর বছর জলাবদ্ধতায় ভোগা মানুষেরা দীর্ঘদিন স্থায়ী সমাধানে টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট (টিআরএম) চালু ও আমডাঙ্গা খাল সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছে।



















