ঢাকা ০৬:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

বিপুল সংখ্যক পরীক্ষা কমে যাওয়া নিয়ে চিন্তিত সংশ্লিষ্টরা

যশোর বোর্ডে এসএসসি পরীক্ষার্থী কমেছে ২১ হাজার ৬৬২

বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১২:০৮:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ এপ্রিল ২০২৫ ১৭৯ বার পড়া হয়েছে

যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড -কপোতাক্ষ ফাইল ছবি

যশোর শিক্ষাবোর্ডে এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী কমেছে ২১ হাজার ৬৬২ জন। গতবছরের তুলনায় এবার কেন বিপুল সংখ্যক পরীক্ষা কমে গেল, তা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। পড়ার টেবিলের সাথে শিক্ষার্থীদের দূরত্ব বাড়ায় এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন। এরই মধ্যে আজ (বৃহস্পতিবার) শুরু হয়েছে এসএসসি ও সমামানের পরীক্ষা। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষা গ্রহণের সবপ্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বোর্ড।

যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড সূত্রে জানা যায়, গতবছর যশোর বোর্ডে পরীক্ষার্থী ছিল একলাখ ৬২ হাজার ৭২৬ জন। যা এবার কমে দাঁড়িয়েছে একলাখ ৪১ হাজার ৬৪ জন। অর্থাৎ এসএসসি পরীক্ষার্থী কমেছে ২১ হাজার ৬৬২ জন। যশোর শিক্ষা বোর্ডের ১০ জেলা থেকে দুই হাজার ৫৭০টি বিদ্যালয়ের এই শিক্ষার্থীরা এসএসসি পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়েছে। এর মধ্যে ছাত্র ৬৯ হাজার ৮৫ ও ছাত্রী ৭১ হাজার ৯৭৯ জন। নিয়মিত পরীক্ষার্থী একলাখ ২৮ হাজার ৬৫৮ ও অনিয়মিত পরীক্ষার্থী ১২ হাজার ২৮৬। বিজ্ঞান শাখায় পরীক্ষার্থী ৪০ হাজার ১৪৪ জন, মানবিক শাখায় পরীক্ষার্থী ৮৫ হাজার ২৩৮ জন ও ব্যবসায়ী শিক্ষা শাখায় পরীক্ষার্থী ১৫ হাজার ৬৮২ জন।

সুষ্ঠু, নকলমুক্ত ও প্রশ্ন ফাঁসমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা গ্রহণের লক্ষ্যে ১৩টি ভিজিলেন্স টিম গঠন করেছে যশোর শিক্ষা বোর্ড। গঠিত ভিজিলেন্স টিমের সদস্যরা নির্ধারিত দিনে কেন্দ্রসমূহ পরিদর্শনের সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন। তারা পরিদর্শন করবেন বোর্ডের আওতাধীন ২৯৯টি পরীক্ষা কেন্দ্র।

সংশি¬ষ্টরা বলছেন, অটোপাস, আন্দোলন-ধর্মঘটে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টানা ছুটি থাকায় প্রস্তুতির অভাব ও শিক্ষার্থীদের মাঝে পরীক্ষাভীতি থাকায় এসএসসি পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে। শিক্ষার্থীদের পাঠমুখী করে ভীতি কাটিয়ে উঠতে হবে। নইলে সংকট আরও বাড়বে।

এ ব্যাপারে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জিএম জুলফিকার আব্দুল্লাহ বলেন, অটোপাসের কারণে ছেলে-মেয়েরা পড়ার টেবিল থেকে সরে গিয়েছিল। তাদের আর পড়ার টেবিলে ফেরানো যায়নি। একই সাথে রাজনীতি, আন্দোলন, ধর্মঘটে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততা বেড়েছে। পড়াশুনা বাদে তারা অন্য কাজে বেশি মনোযোগী হয়েছে। এজন্য তাদের প্রস্তুতির অভাব দেখা দিয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের মাঝে পরীক্ষাভীতি চেপে বসেছে। এজন্য অনেক শিক্ষার্থী পরীক্ষায় বসছে না। শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে হবে। তা না হলে ঝরে পড়ার হার বাড়তেই থাকবে।

যশোর শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. আবদুল মতিন বলেন, প্রতিবছর পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কম বেশি হয়। তবে এবছর বিপুল সংখ্যক পরীক্ষার্থী কমেছে। আমাদের পর্যবেক্ষণ হচ্ছে দীর্ঘদিন পরীক্ষা না দিয়ে দিয়ে শিক্ষার্থীরা পরবর্তী ক্লাসে উত্তীর্ণ হওয়াতে শিক্ষার্থীদের ভিতর পরীক্ষা দেওয়ার মনোভাব খুবই কম। ছেলে-মেয়েদের প্রস্তুতির অভাব ও পরীক্ষাভীতির কারণে পরীক্ষার্থী কমেছে। যা আমাদের ভাবাচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বিপুল সংখ্যক পরীক্ষা কমে যাওয়া নিয়ে চিন্তিত সংশ্লিষ্টরা

যশোর বোর্ডে এসএসসি পরীক্ষার্থী কমেছে ২১ হাজার ৬৬২

আপডেট সময় : ১২:০৮:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ এপ্রিল ২০২৫

যশোর শিক্ষাবোর্ডে এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী কমেছে ২১ হাজার ৬৬২ জন। গতবছরের তুলনায় এবার কেন বিপুল সংখ্যক পরীক্ষা কমে গেল, তা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। পড়ার টেবিলের সাথে শিক্ষার্থীদের দূরত্ব বাড়ায় এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন। এরই মধ্যে আজ (বৃহস্পতিবার) শুরু হয়েছে এসএসসি ও সমামানের পরীক্ষা। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষা গ্রহণের সবপ্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বোর্ড।

যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড সূত্রে জানা যায়, গতবছর যশোর বোর্ডে পরীক্ষার্থী ছিল একলাখ ৬২ হাজার ৭২৬ জন। যা এবার কমে দাঁড়িয়েছে একলাখ ৪১ হাজার ৬৪ জন। অর্থাৎ এসএসসি পরীক্ষার্থী কমেছে ২১ হাজার ৬৬২ জন। যশোর শিক্ষা বোর্ডের ১০ জেলা থেকে দুই হাজার ৫৭০টি বিদ্যালয়ের এই শিক্ষার্থীরা এসএসসি পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়েছে। এর মধ্যে ছাত্র ৬৯ হাজার ৮৫ ও ছাত্রী ৭১ হাজার ৯৭৯ জন। নিয়মিত পরীক্ষার্থী একলাখ ২৮ হাজার ৬৫৮ ও অনিয়মিত পরীক্ষার্থী ১২ হাজার ২৮৬। বিজ্ঞান শাখায় পরীক্ষার্থী ৪০ হাজার ১৪৪ জন, মানবিক শাখায় পরীক্ষার্থী ৮৫ হাজার ২৩৮ জন ও ব্যবসায়ী শিক্ষা শাখায় পরীক্ষার্থী ১৫ হাজার ৬৮২ জন।

সুষ্ঠু, নকলমুক্ত ও প্রশ্ন ফাঁসমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা গ্রহণের লক্ষ্যে ১৩টি ভিজিলেন্স টিম গঠন করেছে যশোর শিক্ষা বোর্ড। গঠিত ভিজিলেন্স টিমের সদস্যরা নির্ধারিত দিনে কেন্দ্রসমূহ পরিদর্শনের সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন। তারা পরিদর্শন করবেন বোর্ডের আওতাধীন ২৯৯টি পরীক্ষা কেন্দ্র।

সংশি¬ষ্টরা বলছেন, অটোপাস, আন্দোলন-ধর্মঘটে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টানা ছুটি থাকায় প্রস্তুতির অভাব ও শিক্ষার্থীদের মাঝে পরীক্ষাভীতি থাকায় এসএসসি পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে। শিক্ষার্থীদের পাঠমুখী করে ভীতি কাটিয়ে উঠতে হবে। নইলে সংকট আরও বাড়বে।

এ ব্যাপারে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জিএম জুলফিকার আব্দুল্লাহ বলেন, অটোপাসের কারণে ছেলে-মেয়েরা পড়ার টেবিল থেকে সরে গিয়েছিল। তাদের আর পড়ার টেবিলে ফেরানো যায়নি। একই সাথে রাজনীতি, আন্দোলন, ধর্মঘটে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততা বেড়েছে। পড়াশুনা বাদে তারা অন্য কাজে বেশি মনোযোগী হয়েছে। এজন্য তাদের প্রস্তুতির অভাব দেখা দিয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের মাঝে পরীক্ষাভীতি চেপে বসেছে। এজন্য অনেক শিক্ষার্থী পরীক্ষায় বসছে না। শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে হবে। তা না হলে ঝরে পড়ার হার বাড়তেই থাকবে।

যশোর শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. আবদুল মতিন বলেন, প্রতিবছর পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কম বেশি হয়। তবে এবছর বিপুল সংখ্যক পরীক্ষার্থী কমেছে। আমাদের পর্যবেক্ষণ হচ্ছে দীর্ঘদিন পরীক্ষা না দিয়ে দিয়ে শিক্ষার্থীরা পরবর্তী ক্লাসে উত্তীর্ণ হওয়াতে শিক্ষার্থীদের ভিতর পরীক্ষা দেওয়ার মনোভাব খুবই কম। ছেলে-মেয়েদের প্রস্তুতির অভাব ও পরীক্ষাভীতির কারণে পরীক্ষার্থী কমেছে। যা আমাদের ভাবাচ্ছে।