ঢাকা ০৪:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

পালবাড়ী মোড়-বোর্ড অফিস-মনিহার জাতীয় মহাসড়ক ৪-লেনে উন্নীত হচ্ছে

বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৬:০০:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ মার্চ ২০২৫ ৩৫৩ বার পড়া হয়েছে

বাবলাতলায় ভৈরব নদের ওপরের বর্তমান ব্রিজ -কপোতাক্ষ

যশোরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় মহাসড়ক পালবাড়ী মোড়-বোর্ড অফিস-মনিহার ৪-লেনে উন্নীত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর ৪শ’ ৪২ কোটি ৮৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে চার দশমিক ৪৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে এ রিং রোড নির্মাণ করছে। এজন্য জুলাই’২৪ থেকে ২০২৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়সীমা ধরা হয়েছে। ৪-লেনে উন্নীত হলে যশোর শহরের যানজট দূর হবার পাশাপাশি শহরের চারপাশের রিং রোড বাস্তবায়নের পথে আরও একধাপ অগ্রগতি সম্পন্ন হবে। ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধিসহ আর্থ-সামাজিক উন্নয়নেও ভূমিকা রাখতে পারবে এই মহাসড়ক। তবে বাস্তবায়নে দুটি বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা এবং সরকারি অন্তত দুটি দপ্তরের সাথে স্বার্থ সংশ্লিষ্ঠ বিষয়ে বেগ পেতে হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ঠরা।

এর আগে, মনিহার-মুড়লি ৪-লেন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। সওজ জানায়, যশোর শহরকে ঘিরে ৪টি জাতীয় মহাসড়ক রয়েছে। এর সবকটিই ৪-লেনে উন্নীত করা হবে। একটি সম্পন্নের পর দ্বিতীয়টির কাজ শুরু হলো। পর্যায়ক্রমে বাকি দুটির কাজও হবে।

প্রকল্পের সামগ্রিক বিষয় অবহিত করার লক্ষ্যে সম্প্রতি জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে অংশীজন সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক মো. আজাহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় সংশ্লিষ্ঠ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, পরিবহন সেক্টরের সংশ্লিষ্ঠ নেতৃবৃন্দ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক এবং ছাত্র প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সভায় সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম কিবরিয়া প্রকল্পের বিস্তারিত দিক উপস্থাপন করেন। উপস্থাপিত বক্তব্যের আলোকে বেশকিছু অংশীজন মতামত গ্রহণ করে প্রকল্প প্রস্তাবনা সংশোধন করা হবে বলে জানান নির্বাহী প্রকৌশলী।

সূত্র জানায়, ২০২৩ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ছোট-বড় মিলিয়ে প্রতিদিন ১৯ হাজার যানবাহন সড়কটি ব্যবহার করে। জাতীয় পরিসংখ্যান অনুযায়ী প্রতিবছর ১৫ শতাংশ হারে ট্রাফিক বাড়ে। সেক্ষেত্রে আগামী ১০ বছরের ভাবনা মাথায় রেখে প্রকল্প তৈরি করা হয়েছে। এরমধ্যে সবচেয়ে বড় একটি বিষয় ভৈরব নদের ওপর বাবলাতলা ও ঢাকা রোড ব্রিজ দুটি নতুন করে নির্মাণ। এর বাইরে সড়ক বিভাজনে পুরো অংশেই আলো ঝলমলে স্ট্রিট লাইট স্থাপন করা হবে। বিদ্যমান পেভমেন্ট প্রশস্ত ও মজবুত করা, রিজিড পেভমেন্ট নির্মাণ, ১০টি বাস-বে, খাজুরা স্ট্যান্ডে একটি ইন্টারসেকশন, ৪৩টি সংযোগ সড়ক নির্মাণ ছাড়াও মনিহার-মুড়লী প্রকল্পে অসম্পন্নকৃত সার্ভিস লেন নির্মাণ করা হবে। এছাড়াও, সেতুর ৪টি অ্যাপ্রোচ সড়ক, ৬টি আরসিসি বক্স কালভার্ট, আরসিসি ড্রেইন কাম ফুটপাত, সসার ড্রেইন, আরসিসি টো-ওয়াল, স্লোপ প্রটেকশন, প্যালাসাইডিং, রোড মার্কিং, ট্রাফিক সাইন, সাইন পোস্ট, সাইনবোর্ড ও কিলোমিটার পোস্ট নির্মাণ করা হবে।

প্রকল্প প্রস্তাবনায় ভৈরব নদের ওপর বাবলাতলা ও ঢাকা রোড ব্রিজ দুটিতে নতুন করে পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ করার কথা রয়েছে। তবে অংশীজন সভার মতামতের আলোকে ডিজাইন সংশোধন করে আর্চব্রিজ করার কথা ভাবা হচ্ছে বলেন জানান সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম কিবরিয়া। দৈনিক কপোতাক্ষকে তিনি বলেন, বর্তমানের ৩০ মিটার দৈর্ঘের ব্রিজ দুটির উচ্চতা ৪ মিটার করে বাড়বে। এতে ব্রিজের দৈর্ঘ্য ৮১ মিটার করে হবে। আইনি জটিলতাসহ অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি এড়াতে বিআইডব্লিউটিএ এবং এলজিইডি থেকে অনাপত্তিপত্র গ্রহণ করা হয়েছে।

তবে কাজ শুরুর ক্ষেত্রে ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতাকেই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে কর্তৃপক্ষ। প্রায় ২ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ করা হবে। সব পরিস্থিতি মোকাবেলায় এজন্য অনেক বেশি সময় নিয়ে একবছর ধরা হয়েছে। এর বাইরে খাজুরা স্ট্যান্ডে একটি ইন্টারসেকশন নির্মাণে হাউজিং কর্তৃপক্ষ এবং বিআরটিসি’র সাথে জমি নিয়ে জটিলতা মোকাবেলা করতে হবে সড়ক বিভাগকে। আর নির্মাণকাজ শুরুর পর বড় চ্যালেঞ্জ থাকবে দুটি নির্মাণ উপকরণের।

সওজ নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, রাস্তা নির্মাণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সাবগ্রেড, যেটা ইটের নিচে থাকে। এই সাবগ্রেড ঠিক না থাকলে উপরে যত ভালোই করা হোক না কেন, রাস্তা টিকবে না। সাবগ্রেডের প্রধান উপাদানই বালি। কিন্তু যশোরের বালির মান ভালো না। এজন্য কুষ্টিয়ার বালি ব্যবহার করা দরকার হবে। কিন্তু এক জেলা থেকে অন্য জেলায় বালি পরিবহনের খরচ এধরনের স্থানীয় পর্যায়ের প্রকল্পে ধরা থাকে না। তারপরও কুষ্টিয়া থেকে বালি আনার ব্যাপারে ঠিকাদারের সাথে সমঝোতায় যেতে হবে সড়ক বিভাগকে। এর বাইরে আরেক বড় চ্যালেঞ্জ হলো ভালোমানের পাথর ব্যবহার। ভালো গ্রেডের পাথরের সংকট রয়েছে দেশে। কারণ এসব পাথর ভারত থেকে আমদানি করা হয়। তবে ভারতের সাথে বাণিজ্যের সংকট ততদিনে কেটে যাবে বলে মনে করেন সড়ক নির্মাণের এ প্রকৌশলী। আর মানসম্মত না হলেও প্রচলিত বিটুমিনই ব্যবহার করতে হবে। কারণ দেশে সীমিতভাবে চালু হওয়া মানসম্মত ‘পলিমার মডিফাইড বিটুমিন’ ব্যবহারের অনুমোদন নেই এই প্রকল্পে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

পালবাড়ী মোড়-বোর্ড অফিস-মনিহার জাতীয় মহাসড়ক ৪-লেনে উন্নীত হচ্ছে

আপডেট সময় : ০৬:০০:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ মার্চ ২০২৫

যশোরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় মহাসড়ক পালবাড়ী মোড়-বোর্ড অফিস-মনিহার ৪-লেনে উন্নীত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর ৪শ’ ৪২ কোটি ৮৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে চার দশমিক ৪৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে এ রিং রোড নির্মাণ করছে। এজন্য জুলাই’২৪ থেকে ২০২৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়সীমা ধরা হয়েছে। ৪-লেনে উন্নীত হলে যশোর শহরের যানজট দূর হবার পাশাপাশি শহরের চারপাশের রিং রোড বাস্তবায়নের পথে আরও একধাপ অগ্রগতি সম্পন্ন হবে। ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধিসহ আর্থ-সামাজিক উন্নয়নেও ভূমিকা রাখতে পারবে এই মহাসড়ক। তবে বাস্তবায়নে দুটি বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা এবং সরকারি অন্তত দুটি দপ্তরের সাথে স্বার্থ সংশ্লিষ্ঠ বিষয়ে বেগ পেতে হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ঠরা।

এর আগে, মনিহার-মুড়লি ৪-লেন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। সওজ জানায়, যশোর শহরকে ঘিরে ৪টি জাতীয় মহাসড়ক রয়েছে। এর সবকটিই ৪-লেনে উন্নীত করা হবে। একটি সম্পন্নের পর দ্বিতীয়টির কাজ শুরু হলো। পর্যায়ক্রমে বাকি দুটির কাজও হবে।

প্রকল্পের সামগ্রিক বিষয় অবহিত করার লক্ষ্যে সম্প্রতি জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে অংশীজন সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক মো. আজাহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় সংশ্লিষ্ঠ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, পরিবহন সেক্টরের সংশ্লিষ্ঠ নেতৃবৃন্দ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক এবং ছাত্র প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সভায় সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম কিবরিয়া প্রকল্পের বিস্তারিত দিক উপস্থাপন করেন। উপস্থাপিত বক্তব্যের আলোকে বেশকিছু অংশীজন মতামত গ্রহণ করে প্রকল্প প্রস্তাবনা সংশোধন করা হবে বলে জানান নির্বাহী প্রকৌশলী।

সূত্র জানায়, ২০২৩ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ছোট-বড় মিলিয়ে প্রতিদিন ১৯ হাজার যানবাহন সড়কটি ব্যবহার করে। জাতীয় পরিসংখ্যান অনুযায়ী প্রতিবছর ১৫ শতাংশ হারে ট্রাফিক বাড়ে। সেক্ষেত্রে আগামী ১০ বছরের ভাবনা মাথায় রেখে প্রকল্প তৈরি করা হয়েছে। এরমধ্যে সবচেয়ে বড় একটি বিষয় ভৈরব নদের ওপর বাবলাতলা ও ঢাকা রোড ব্রিজ দুটি নতুন করে নির্মাণ। এর বাইরে সড়ক বিভাজনে পুরো অংশেই আলো ঝলমলে স্ট্রিট লাইট স্থাপন করা হবে। বিদ্যমান পেভমেন্ট প্রশস্ত ও মজবুত করা, রিজিড পেভমেন্ট নির্মাণ, ১০টি বাস-বে, খাজুরা স্ট্যান্ডে একটি ইন্টারসেকশন, ৪৩টি সংযোগ সড়ক নির্মাণ ছাড়াও মনিহার-মুড়লী প্রকল্পে অসম্পন্নকৃত সার্ভিস লেন নির্মাণ করা হবে। এছাড়াও, সেতুর ৪টি অ্যাপ্রোচ সড়ক, ৬টি আরসিসি বক্স কালভার্ট, আরসিসি ড্রেইন কাম ফুটপাত, সসার ড্রেইন, আরসিসি টো-ওয়াল, স্লোপ প্রটেকশন, প্যালাসাইডিং, রোড মার্কিং, ট্রাফিক সাইন, সাইন পোস্ট, সাইনবোর্ড ও কিলোমিটার পোস্ট নির্মাণ করা হবে।

প্রকল্প প্রস্তাবনায় ভৈরব নদের ওপর বাবলাতলা ও ঢাকা রোড ব্রিজ দুটিতে নতুন করে পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ করার কথা রয়েছে। তবে অংশীজন সভার মতামতের আলোকে ডিজাইন সংশোধন করে আর্চব্রিজ করার কথা ভাবা হচ্ছে বলেন জানান সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম কিবরিয়া। দৈনিক কপোতাক্ষকে তিনি বলেন, বর্তমানের ৩০ মিটার দৈর্ঘের ব্রিজ দুটির উচ্চতা ৪ মিটার করে বাড়বে। এতে ব্রিজের দৈর্ঘ্য ৮১ মিটার করে হবে। আইনি জটিলতাসহ অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি এড়াতে বিআইডব্লিউটিএ এবং এলজিইডি থেকে অনাপত্তিপত্র গ্রহণ করা হয়েছে।

তবে কাজ শুরুর ক্ষেত্রে ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতাকেই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে কর্তৃপক্ষ। প্রায় ২ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ করা হবে। সব পরিস্থিতি মোকাবেলায় এজন্য অনেক বেশি সময় নিয়ে একবছর ধরা হয়েছে। এর বাইরে খাজুরা স্ট্যান্ডে একটি ইন্টারসেকশন নির্মাণে হাউজিং কর্তৃপক্ষ এবং বিআরটিসি’র সাথে জমি নিয়ে জটিলতা মোকাবেলা করতে হবে সড়ক বিভাগকে। আর নির্মাণকাজ শুরুর পর বড় চ্যালেঞ্জ থাকবে দুটি নির্মাণ উপকরণের।

সওজ নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, রাস্তা নির্মাণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সাবগ্রেড, যেটা ইটের নিচে থাকে। এই সাবগ্রেড ঠিক না থাকলে উপরে যত ভালোই করা হোক না কেন, রাস্তা টিকবে না। সাবগ্রেডের প্রধান উপাদানই বালি। কিন্তু যশোরের বালির মান ভালো না। এজন্য কুষ্টিয়ার বালি ব্যবহার করা দরকার হবে। কিন্তু এক জেলা থেকে অন্য জেলায় বালি পরিবহনের খরচ এধরনের স্থানীয় পর্যায়ের প্রকল্পে ধরা থাকে না। তারপরও কুষ্টিয়া থেকে বালি আনার ব্যাপারে ঠিকাদারের সাথে সমঝোতায় যেতে হবে সড়ক বিভাগকে। এর বাইরে আরেক বড় চ্যালেঞ্জ হলো ভালোমানের পাথর ব্যবহার। ভালো গ্রেডের পাথরের সংকট রয়েছে দেশে। কারণ এসব পাথর ভারত থেকে আমদানি করা হয়। তবে ভারতের সাথে বাণিজ্যের সংকট ততদিনে কেটে যাবে বলে মনে করেন সড়ক নির্মাণের এ প্রকৌশলী। আর মানসম্মত না হলেও প্রচলিত বিটুমিনই ব্যবহার করতে হবে। কারণ দেশে সীমিতভাবে চালু হওয়া মানসম্মত ‘পলিমার মডিফাইড বিটুমিন’ ব্যবহারের অনুমোদন নেই এই প্রকল্পে।