ঢাকা ০৫:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

ব্যতিক্রম আয়োজনে প্রধান শিক্ষকের বিদায়

প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০২:২৮:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ ৩৪৪ বার পড়া হয়েছে

বীরনারায়নপুর তের আউলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলতাফ হোসেনকে বিদায় সংবর্ধনা দেয়া হয় -কপোতাক্ষ

ব্যতিক্রম আয়োজনের মধ্য দিয়ে চাকরি জীবনের শেষদিনে ফুলে সাজানো গাড়িতে তিন গ্রাম ঘুরিয়ে বিদায় নিয়েছেন প্রধান শিক্ষক আলতাফ হোসেন। তিনি যশোর সদর উপজেলার বীরনারায়নপুর তের আউলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। আজ (মঙ্গলবার) কর্মময় জীবন থেকে তিনি বিদায় নিয়েছেন।

এ উপলক্ষে আজ (মঙ্গলবার) দুপুরে প্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গনে প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মাহাবুবুর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার এসএম শামিম হোসেন।

এ সময় স্থানীয় লেবুতলা, বীরনারায়নপুরসহ কয়েক গ্রামের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন। বিদায়ী শিক্ষককে বিভিন্ন উপহার প্রদান করেন স্কুলের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকাবাসী।

বীরনারায়নপুর তের আউলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী মনিরুজ্জামান বলেন, আমি আলতাফ হোসেন স্যারের ছাত্র ছিলাম। স্যারকে ছুটি নিতে দেখিনি। অসুস্থ থাকলেও স্যার স্কুলে এসেছেন। স্যারের দেয়া শিক্ষা নিয়ে আজ আমরা নানাভাবে প্রতিষ্ঠিত। স্যার আমাদের আদর্শ। একজন আদর্শ শিক্ষক আজ চাকরি থেকে বিদায় নিলেন। স্যার ভালো থাকুক সব সময়।

ফারিয়া মিম বলেন, ক্লাসে পড়াশুনা সুন্দর করে বুঝাতেন। স্কুল পরিষ্কার করে রাখতে তিনি। শুধু পড়াশুনা না; বিভিন্ন কারিকুলামে উদ্বুদ্ধ করতেন স্যার আমাদের।

পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র আলভি হাসান বলেন, স্যার আমাদের সন্তানের মতো দেখেন। কোনো কারণে স্কুলে আসতে না পারলে বাড়িতে যেয়ে খোঁজখবর নিতেন।

সাবেক সভাপতি শওকত হোসেন বলেন, স্কুলের জন্য বিভিন্ন সময় কেনাকাটা করেছি। এক টাকা অতিরিক্ত খরচ করতেন না। তিনি সৎ। মানুষ ছিলেন।

এসময় কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন বিদায়ী শিক্ষক আলতাফ হোসেন। তিনি বলেন, ১৯৮৯ সালের আগস্ট মাসে স্থানীয় কয়েকজন মিলে উদ্যোগ নিয়ে স্কুল প্রতিষ্ঠা করি। আমি চেষ্টা করেছি কোনো ধরনের বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া ছুটি না নিতে। শিক্ষার্থীদের সবসময় পড়াশুনার প্রতি উদ্বুদ্ধ করেছি। পরিশেষে কর্মময় জীবনে কোনো ধরনের ভুলত্রুটি করে থাকলে সবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। বাকি জীবন পরিবার-পরিজন নিয়ে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে যেন অতিবাহিত করতে পারি, সেজন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করছি। আমার চাকরি জীবনের শেষদিনে সুন্দর অনাড়ম্বরের মধ্য দিয়ে বিদায় ছিল কল্পনাতীত। এটা আমার জীবনের অনেক বড় প্রাপ্তি।

শিক্ষক আলতাফ হোসেন উপজেলার বীরনারায়নপুর গ্রামের আজিম উদ্দিনের ছেলে। তিনি ১৯৮৯ সালের আগস্ট মাসে চাকরিতে যোগদান করেছিলেন। দাম্পত্য জীবনে স্ত্রী, এক ছেলে ও পাঁচ মেয়ে আছে। তিনি একজন ক্রীড়া সংগঠক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব। কর্মময় জীবনে অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রীকে শিক্ষা দিয়েছেন, যারা বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ ব্যবসা ও রাজনীতিতে দেশ ও জাতির জন্য অবদান রেখে চলছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ব্যতিক্রম আয়োজনে প্রধান শিক্ষকের বিদায়

আপডেট সময় : ০২:২৮:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

ব্যতিক্রম আয়োজনের মধ্য দিয়ে চাকরি জীবনের শেষদিনে ফুলে সাজানো গাড়িতে তিন গ্রাম ঘুরিয়ে বিদায় নিয়েছেন প্রধান শিক্ষক আলতাফ হোসেন। তিনি যশোর সদর উপজেলার বীরনারায়নপুর তের আউলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। আজ (মঙ্গলবার) কর্মময় জীবন থেকে তিনি বিদায় নিয়েছেন।

এ উপলক্ষে আজ (মঙ্গলবার) দুপুরে প্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গনে প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মাহাবুবুর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার এসএম শামিম হোসেন।

এ সময় স্থানীয় লেবুতলা, বীরনারায়নপুরসহ কয়েক গ্রামের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন। বিদায়ী শিক্ষককে বিভিন্ন উপহার প্রদান করেন স্কুলের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকাবাসী।

বীরনারায়নপুর তের আউলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী মনিরুজ্জামান বলেন, আমি আলতাফ হোসেন স্যারের ছাত্র ছিলাম। স্যারকে ছুটি নিতে দেখিনি। অসুস্থ থাকলেও স্যার স্কুলে এসেছেন। স্যারের দেয়া শিক্ষা নিয়ে আজ আমরা নানাভাবে প্রতিষ্ঠিত। স্যার আমাদের আদর্শ। একজন আদর্শ শিক্ষক আজ চাকরি থেকে বিদায় নিলেন। স্যার ভালো থাকুক সব সময়।

ফারিয়া মিম বলেন, ক্লাসে পড়াশুনা সুন্দর করে বুঝাতেন। স্কুল পরিষ্কার করে রাখতে তিনি। শুধু পড়াশুনা না; বিভিন্ন কারিকুলামে উদ্বুদ্ধ করতেন স্যার আমাদের।

পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র আলভি হাসান বলেন, স্যার আমাদের সন্তানের মতো দেখেন। কোনো কারণে স্কুলে আসতে না পারলে বাড়িতে যেয়ে খোঁজখবর নিতেন।

সাবেক সভাপতি শওকত হোসেন বলেন, স্কুলের জন্য বিভিন্ন সময় কেনাকাটা করেছি। এক টাকা অতিরিক্ত খরচ করতেন না। তিনি সৎ। মানুষ ছিলেন।

এসময় কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন বিদায়ী শিক্ষক আলতাফ হোসেন। তিনি বলেন, ১৯৮৯ সালের আগস্ট মাসে স্থানীয় কয়েকজন মিলে উদ্যোগ নিয়ে স্কুল প্রতিষ্ঠা করি। আমি চেষ্টা করেছি কোনো ধরনের বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া ছুটি না নিতে। শিক্ষার্থীদের সবসময় পড়াশুনার প্রতি উদ্বুদ্ধ করেছি। পরিশেষে কর্মময় জীবনে কোনো ধরনের ভুলত্রুটি করে থাকলে সবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। বাকি জীবন পরিবার-পরিজন নিয়ে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে যেন অতিবাহিত করতে পারি, সেজন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করছি। আমার চাকরি জীবনের শেষদিনে সুন্দর অনাড়ম্বরের মধ্য দিয়ে বিদায় ছিল কল্পনাতীত। এটা আমার জীবনের অনেক বড় প্রাপ্তি।

শিক্ষক আলতাফ হোসেন উপজেলার বীরনারায়নপুর গ্রামের আজিম উদ্দিনের ছেলে। তিনি ১৯৮৯ সালের আগস্ট মাসে চাকরিতে যোগদান করেছিলেন। দাম্পত্য জীবনে স্ত্রী, এক ছেলে ও পাঁচ মেয়ে আছে। তিনি একজন ক্রীড়া সংগঠক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব। কর্মময় জীবনে অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রীকে শিক্ষা দিয়েছেন, যারা বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ ব্যবসা ও রাজনীতিতে দেশ ও জাতির জন্য অবদান রেখে চলছেন।