Take a fresh look at your lifestyle.

যশোরে ৫০ গৃহহীন পরিবারের স্বপ্ন পূরণ

0

প্রতিবেদক :
গৃহহীনদের স্বপ্ন পূরণের সারথি হয়েছে যশোর জেলা পরিষদ। প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত সবার জন্য বাসস্থান নিশ্চিতের অংশ হিসেবে জেলার ৫০টি গৃহহীন পরিবারকে বাসগৃহের ব্যবস্থা করেছে এ প্রতিষ্ঠানটি। নিজস্ব ফান্ড থেকে পৌনে দুই কোটির বেশি ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে গৃহগুলো। কয়েকটি গৃহ ইতোমধ্যে হস্তান্তর করা হয়েছে। গৃহহীনের বঞ্চনামুক্ত হয়েছেন তারা।

জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামান জানান, মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে ২০২২-২০২৩ অর্থ বছরে জেলা পরিষদ নিজস্ব অর্থে ৮ উপজেলার ৫০ জন গৃহহীনকে ঘর নির্মাণ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। প্রতিটি ঘর নির্মাণে ব্যয় হয়েছে তিন লাখ ছয় হাজার চারশ’ ২২ টাকা। এ হিসেবে ৫০টি ঘর নির্মাণে মোট ব্যয় হয়েছে এক কোটি ৮০ লাখ ২১ হাজার একশ টাকা।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নে একেবারে প্রান্তিক পর্যায়ের গৃহহীনদের খুঁজে বের করা হয়। এরপর তালিকা অনুমোদনের পর ঠিকাদার নির্বাচন করে জেলা পরিষদ। গতবছর মে মাসে ঠিকাদারকে কার্যাদেশ দেয়া হয়। কার্যাদেশ পেয়ে ঘর নির্মাণ শুরু করে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স আলী এন্টারপ্রাইজ।

জেলা পরিষদের বরাদ্দের নতুন ঘর পেয়েছেন ঝিকরগাছার বাউশা গ্রামের শিউলি বিশ্বাস। তিনি বলেন, আম্পান ঝড়ে তাদের ঘরের টিন উড়ে গিয়েছিল। বারান্দার টালি ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যায়। খোলা আকাশের নিচে বসবাস করতে হয়েছে। কোনোমতে ছাউনির ব্যবস্থা করতে পারলেও অর্থাভাবে তারা ঘর নির্মাণ করতে পারছিলেন না। জেলা পরিষদ দুইরুমের ঘর নির্মাণ করে দেয়ায় তারা খুশি হয়েছেন। ঘর পেয়েছেন যশোর সদরের মানিকদিহি গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে জহুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, পিতার জমি-বাড়ি নেই। ভাড়াবাড়িতে বড় হয়েছেন। বিয়ে করে থাকেন শ্বশুরবাড়িতে। কঠোর পরিশ্রম করে তিন বছর আগে সাড়ে তিন শতক জমি কেনেন। সেই জমিতে জেলা পরিষদ তার দুই রুমের ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। দ্রুত সেই ঘর তাকে হস্তান্তর করা হবে। গৃহহীনের বঞ্চনা চিরতরে ঘুচে যাওয়ায় তার চোখে মুখে আনন্দের ঝিলিক।

শুধু জহুরুল ইসলাম কিংবা শিউলি বিশ্বাসের নয়; জমি আছে কিন্তু গৃহহীন এরকম ৫০ পরিবারের ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে যশোর জেলা পরিষদ। এর মধ্যে যশোর সদরে ১৫টি, মণিরামপুরে ৯টি, শার্শায় ৬টি, ঝিকরগাছায় ১০টি, বাঘারপাড়ায় ১টি, কেশবপুরে ৫টি এবং অভয়নগর ও চৌগাছায় ২টি করে। ৫০টি ঘরের মধ্যে ৪৭টি নির্মাণ শেষ হয়েছে। তিনটি প্রক্রিয়াধীন।

যশোর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আছাদুজ্জামান বলেন, বেশিরভাগ গৃহ নির্মাণ শেষ হয়েছে। নির্মাণ শেষে অনেকগুলো হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে সবগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে। গৃহহীন মানুষের স্বপ্ন বড় দালানকোঠা কিংবা আলিশান বাড়ি নয়। স্বপ্ন একটি ঘর। তাদের স্বপ্ন একটি ঠিকানা। তাদের স্বপ্নপূরণের সারথি হয়েছে জেলা পরিষদ।

জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান পিকুল বলেন, গৃহহীনদের গৃহ নির্মাণ করে দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ রয়েছে। নির্দেশ বাস্তবায়নের মধ্যে দিয়ে দরিদ্র মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পেরে আনন্দিত। অনেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে জীর্ণ-শীর্ণ বাড়িতে থাকতেন। ঝড়-বৃষ্টির দিনে মানবেতর জীবনযাপন করতেন। তাদের সেই কষ্টের দিন ঘুচে যাচ্ছে।

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.